ধাম করে দরজাটা খুলে গেলো। মনে হলো দরজাটা কোনো মিলিটারিম্যান লাথি মেরে ভেঙে দিয়েছে। ভেতরে থাকা নাক ডাকা লোকটা লাফ দিয়ে উঠলো ঘুম থেকে। কোলের উপর থাকা রাইফেলটার ট্রিগারে হাত ছিলো। গুড়ুম করে গুলি হলো। ঝন ঝন করে শব্দ হলো। সামনের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছে নীচে। এখনও দরজায় কেউ আসেনি। তবে বাড়ির ভেতরের দিক থেকে হই হুল্লোড় যে শুরু হয়ে গেছে তা এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে।
দরজায় একটা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো। লোকটার মাথায় চুল নেই। মোটাসোটা মুখ। শরীরটাও একই। হাত উপরে তুলে মেঝেতে ঘুষি মারলো। ব্যাস মাটিতে ক্র্যাক লেগে রাইফেল ওয়ালা লোকটা ফাটলের ভেতর পড়ে গেলো।
গগনবিদারী আওয়াজে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ হলো। এবার দৌড়ে এসে গেলো ভেতরের লোকগুলো। সবকটার হাতে রাইফেল। এবার টাক মাথা লোকটা বেশ রাগত ভাবেই ঘুষি পাকিয়ে দিলো বাতাসে। ব্যস, অমনি সব কটা মাটিতে উলটে পড়ে গেলো।
"উফফ!'তোমরা কেনো লাগতে চাও ডেস্ট্রয়ার ব্রাদার্স এর সাথে? জানোতো আমরা ক্রাইম ফাইটার। তা তোমাদের ভেতর ভদ্র চান্দু কে আছো? চুপচাপ থাকার দরকার নেই। শুধু এটুকু বলে যাও যে তোমাদের উদ্দেশ্য কি এইখানে?"
== তিন মিনিট আগে ==
বাবর ভাবতে পারেনি ভেতরের দিকে কি অপেক্ষা করছে তার জন্য। ভেতরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ। একি এসব তো ট্রান্সপোর্ট পোর্টাল। মানে এই পোর্টাল দিয়ে প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে মানুষ আসতে পারবে। বেশ মাথা গরম হয়ে গেলো বাবরের। এরা কি জালিয়াতি করার জন্য এসব খুলেছে? আসলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল অপেক্ষাকৃত অনেকটুকু দূষিত হয়ে গেছে। নদী-সাগরের পানি কল-কারখানার দূষিত বর্জ্যে ভরপুর।
ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেলো অপেক্ষমান অনেক মানূষ। এরা অনেকেই চাইছে যাতে অন্য কোনো প্যারালাল দুনিয়ায় গিয়ে বসবাস করতে। অদ্ভুতভাবে এ যেনো দুই দশকের আগের কথা মনে করিয়ে দিলো। সেসময় ভালো জীবিকার সন্ধানে এরা কেউ কেউ ইউরোপে পাড়ি জমাতো। আজকে বাবর, জাফরের সাথে আইরিন এসেছে। বাইরে পেট্রোল দিচ্ছে হিমাংশু ও মরচে।
ভেতরে যতো যাচ্ছে ততো পোর্টাল দেখা যাচ্ছে। ঠিক যেনো এক সাথে এটিএম বুথ অনেকগুলো। সামনে এপ্রোচ করতেই আটকে গেলো জাফর। এক বিশালদেখী মানূষ দাঁড়িয়ে আছে। 'ভেতরে যাওয়া যাবেনা' বলে ঘোষণা দিলো।
== তিন মিনিট পর==
বিশালদেহী লোকটাকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে আইরিন। ওর মনের শক্তির ধার বেশ ভালো। স্পেশালিটি এটাই যেটা টারগেট
করে সেই এক টুকরো মাংসের দলা হয়ে যায়। এদিকে জাফর ও বাবর সমানে মাটি কাঁপাচ্ছে। তাদের দুই ভাইয়ের পাওয়ার ই মাটিতে ফাটল ধরিয়ে শত্রুকে বিপদে ফেলা। এমন সময় হুট করে সামনে এক লোক চলে এলো। জাফর ও বাবরের বুদ্ধি খাটলো না এখানে। লোকটা সোজা ফাটলের দুই পাড়ে হেঁটে সামনে এলো। একেবারে সমান্তরাল রেখায় এসে দুই ভাইকে দুদিকে ছুঁড়ে দিলো। ব্যথায় ককিয়ে উঠলো দুই ভাই। আইরিন কোমরের বেল্টে থাকা এসওএস বাটন টিপে দিলো। এটা হলো বাইরে যারা পেট্রোলিংয়ের দ্বায়িত্বে আছে তাদের জানিয়ে দেয়া। বরফের কঠিন সারফেসে দ্রুত চড়ে এসে হিমাংশু তার আইস রকেট ছুঁড়ে দিতে লাগলো। হিমাংশুর সাথে সাথে আইরিনও তৎপর হয়ে উঠলো। আইস রকেট লোকটার বুকের ভেতরে আসতেই ফট করে বিস্ফোরণ ঘটালো আইরিন।
'আরি! আইরিন আপু মেরে ফেললে নাকি?'
'আরে না। ওর শরীর তোর আইস রকেট গিলে নেওয়ার সময় ব্লাস্ট করে জাস্ট রক্ত চলাচল জমিয়ে দিয়েছি।'
লোকটা দুঘন্টার আগে উঠবেনা। সেই দলের নেতা ছিলো। বাকিরাও ধরা খেয়েছে। সবাইকে সেলে পোরানো হয়েছে। এভাবেই মিশনের ইতি ঘটলো।
