গোপন সংঘ দ্য ফ্লেইম || pdf



কেমন করে যেনো দিনগুলো পার হয়ে গেলো। বৃষ্টি শেষে শরতের আগমন যেমন উষ্ণতার বিদায়ের ঘন্টাধ্বনি বাজায়, ঠিক তেমনি করে অপরাধ দমন চক্রের ভেতর যেনো একটা পালা বদল এলো। আমরা আজ কথা বলবো এমন এক দলের যাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। আছে শুধু স্পৃহা, অপরাধীকে মানবাধিকারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া।
“গোপন সংঘ” একদিনে তৈরি হয়নি। গোপন সংঘের মূলমন্ত্র সংবিধান লঙ্ঘন না করে শ্রদ্ধার সাথে অপরাধ দমন করা। এর দলনেতা হচ্ছে মিশু ওরফে রাতের প্রহরী। মিশুর কোনো অস্ত্র নেই। আছে বিভিন্ন ছোটো যন্ত্রপাতি যার মাধ্যমে সে শত্রুকেই ঘায়েল করতে পারে। অবশ্য তীরন্দাজ সাব্বিরের ভাষায় অন্য কিছু  প্রকাশ হয়। এক- অপরাধী পাওয়া মাত্রই তাকে আঘাত করে দুর্বল করে ফেলতে হবে প্রমাণস্বাপেক্ষে। এই দলটা মোটামুটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গোটা রাজধানীতে। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলো- জাইমা ওরফে চাবুকি, বাজ, লিটা বুমেরাং বালিকা, ধ্বংসা আইরিন, জাফর দ্য টেলিপোরটার, ক্র্যাকারস, বলারস, ইব্রাহীম দ্য গ্রাভিটি ব্রেকার।

সিগনেচার করপোরেশন কি ও কোন উদ্দেশ্যে একটা বড় প্রজেক্ট বাতিল করে দিলো সেটা বড়ো ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো মিশুর জন্য। কারণ মিশু উত্তর ঢাকার সর্বেসর্বা এখন। মানে হলো সে মেয়র। দু মাস আগে সিগনেচার করপোরেশন এবং উত্তর ঢাকার একটা বড় সড় প্রজেক্ট এনলাইট দ্য নর্থসিটি এর শুভ মহরতের প্রাক্কালে যে পরিকল্পনা শুরু হয়, আক্ষরিক অর্থে তা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সিটি করপোরেশনের জন্য।
আনবিক শক্তি কমিশনের কাছ থেকে বিল পাশ করাতে রীতিমতো ঘাম ছুটে গেছে মিশুর। একটা পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যা থেকে শহরের দুই প্রান্তে সরবরাহ হবে তা মোটামুটি স্বাক্ষর হয়ে গেলে প্রজেক্টের জন্য কোনো বাঁধা থাকার কথা না। কিন্তু আজ দ্বিতীয় মাসে হুট করে ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেকটা বিব্রতকর অবস্থার দিকে ঠেলে দিলো।
জাইমা মিশুর স্ত্রী এবং বাজ হচ্ছে শ্যালক। গোপন সংঘের একটা বেজমেন্ট আছে। আজ রাতে সেখানে গোলটেবিল বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং মোটামুটি সবাই আসতে শুরু করেছে। গ্রাভিটি ব্রেকার ইব্রাহীম সবার আগে পৌঁছুলেন। মিশু গম্ভীর হয়ে বসেই ছিলো এবং ইব্রাহীম ও মাথা নাড়িয়ে কথা বলা শুরু করলেন।
-বেশ ঘোরালো লাগছে ব্যপারটা।
-সিগনেচার করপোরেশনের ব্যপারটা?
-হ্যাঁ। মিশু বেশ চিন্তিত।
-আজ রাতে পেরিমিটার ব্লক দিবো চিন্তা করছি।
-চলেন। আগে সবাই আসুক। মিশু সায় দিলো।
একে একে সবাই আসা শুরু করলো। জমায়েত হওয়ার পর মিশু সবাইকে ডিরেকশান দিলো কোথায় যেতে হবে। সাভার এলাকায় আসার পর সবাই নেমে গেলো গাড়ি থেকে। অবশ্য এই রেইড দেয়ার আগে বিভিন্নভাবে চিন্তা করতে হয়েছে মিশুকে। যদিও, ইব্রাহীম ভরসা দিয়েছেন বলে সাব্বির সহ আর যারা নবীন আছে সবাই এখানে আসতে পেরেছে। মিশুর কাধব্যাগে গ্র্যাপলিন গান, ম্যাগহুক, শকরড, ইকোব্লাস্টারসহ আরো অনেক কিছুই আছে। ওদিকে সাব্বিরের হাতে আছে তীর-ধনুকের আধুনিক সংস্করণ। বাকীদের যা যা আছে সবাই সবকিছু নিয়ে তৈরি।
-মিশু। জাইমা গোপন সংঘের ওয়াচটাওয়ার থেকে বলছে। “দক্ষিণ দিকে একটা গোপন দরজা আছে...”
-চলে এসেছি। আগে থেকেই জেনেশুনে এসেছি।
-তোমার তো সবকিছুই আগে আগে করা হয়ে যায়।
ইব্রাহীম, সাব্বিরকে নিয়ে মিশু এক দিকে চলে গেলো ফ্যাক্টরির। যেটানিয়াম প্লুরাইডের লিকুইড ওয়্যারহাউজ ওদিকে। একটা তেরো ইঞ্চি পাইপ সোজা ওদিক থেকে বেরিয়ে চলে গেছে। ওটা রিঅ্যাকটর ভেসেল।দরজার সামনে আলো! পেছনের দরজায় সাব্বির আর ইব্রাহীমকে রেখে মিশু ভেতরে পা বাড়ালো। অবশ্য দরজা দিয়ে নয়। ছাতে উঠে সোজা ঘুলঘুলির ভেতর দিয়ে ঢুকলো। মিনারেলের বিশাল ট্যাংক। ঢুকতেই চোখ ছানাবড়া। কিসের করপোরেশন? এখানে সব অস্ত্র তৈরি হচ্ছে। একটা ছোট টিউব গ্লাসের। সেটা গানের মাঝে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে।
-সবাই শুনুন মনোযোগ দিয়ে। সিগনেচার করপোরেশন আমাদের ধোঁকা দিয়েছে। মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা লিখা থাকলেও এরা এক ধরণের নিউক্লিয়ার গান তৈরি করছে। বলারস অ্যান্ড ক্র্যাকারস তোমরা পুব দিকে রেইড দাও। আর লিটা, আইরিন ও জাফর তোমরা যাবে উত্তর দিকে। খবরদার পশ্চিম দিকে কেউ যাবে না। ওটা মেইন গেইট। কড়া সিকিউরিটি দেয়া।
লিটা যখন আইরিন আর জাফরকে নিয়ে উত্তরে ঢুকার চেষ্টা করছে অন্যদিকে বলারস আর ক্র্যাকারস ঝামেলা বাধিয়ে দিলো পুবগেটে। কেউ জানতো না ওখানে গার্ড দেয়া আছে।
-এই যে কারা আপনারা?
-আমরা তোর বাপ। হারামজাদা সর।
ব্যস অমনি টিপে

Post a Comment

Previous Post Next Post