এজেন্টস অব ডি: গাজা স্ট্রাইকস || পর্ব-৪|| ইভেন্ট-ডুম ইন ইজরায়েল




হেডকোয়ার্টারে বসে পিরেম শানেদ আশেপাশের সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ সে জানে যে, আশেপাশে কিছু হোক না কেন তার সবকিছুই নিয়মমাফিক চলছে। কিন্তু এই নিয়মের ব্যতায় ঘটানো হয়েছে শুধুমাত্র এজেন্টস অব ডি নামে বাংলাদেশের একটা স্পাই গ্রুপের কারণে।

গত কয়েক দিনের ভিডিও গুলো সে ভালোভাবে দেখতে শুরু করলো। এরা আরও কিছু ভাড়াটে সুপারহিরো নিয়ে এসেছে। মুখে একটা টুর বীরেমশানেদের কারণ সে তার আসল খেল দেখাতে শুরু করবে এই এজেন্টস অফ ডি-য়ের সাথে। একে একে সবার প্রোফাইল দেখল। সে জানে এরা বাংলাদেশের ডিজিএফআই এর সৈনিক সবাই। তাদের কে আলাদা করে চেনার কোন দরকার নেই।
"গ্রেস শ্যানেল এদিকে আসো।"
একটা মেয়ে এগিয়ে এল। অল্প বয়েসী। নিতম্বটা প্রায় শূন্য মনে হলো। কোনো মেদ নেই। টাইট ফিট একটা স্পাই কস্টিউম পড়ে আছে। কালো। দেখে মনে হবে কোনো ইয়োগা ডায়েটিশিয়ান। তাকে দেখে পিরেম শানেদ বলল, "তোমার একটা এসাইনমেন্ট আছে। এই যে একটা ছেলেকে দেখছো, বরফের চাঁই মেরে মেরে আমাদের ইসরায়েলের চোখের সামনেই করছে। তাকে একটু শিক্ষা দিতে হবে। পারলে ছেলেটার মাথা মানে ধড়টা নিয়ে এসো। আমি তাদের ওকে দেখতে চাই।"
সেদিনই গ্রেস শ্যানেল জানতে পারলো যে, নিশ্চয়ই এই বাংলাদেশি গ্রুপটা কোন ধরনের একটিভিটিস করছে ইসরাইল বর্ডারে এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মাঝখানে এসে ফিলিস্তিনীদের সেভিওর হয়ে উঠল। তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য পুরো টিমটাকে মানে হিমাংশু বর্ধক তাদের সাথে আর যারা যারা আছে, একাই সামলানোর দ্বায়িত্ব দিয়েছেন কমরেড শানেদ।
হিমাংশু পুরোপুরি না বুঝলেও অন্যরা ঠিকই বুঝতে পারছিল যে হিমাংশুর একটু এক্সট্রা এক্টিভিটিজ এর কারণে ইসরাইলের কাছে এসে কালার হয়ে যেতে পারে যার কারণে নিশ্চয়ই তাদের মারার জন্য দুতিনটা গ্রুপ একত্র হচ্ছে।
একদিন সকালে গ্রেস শ্যানেল, সেই মেয়েটা রেইড দিলো ইসরাইলি সেনার আইডি দেখিয়ে ক্যাম্পিং এলাকার ভেতর। সে হিমাংশুর নাম বলে ডাক দিল। রিশাদ আসার পর গ্রেস শ্যানেলের হাত থেকে তীব্র গতিতে চিকন চাবুক বেরিয়ে এল। ততোক্ষণে বাকি সবাই বেরিয়ে এসেছে হিমাংশু সহ।
"কাম অন বয়। এই ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার ডাক এসেছে।" সেই হিমাংশুকে আঘাত করতে চেষ্টা করল। চাবুকের কোনাটা মারাত্নক চিকন। তার আগায় জ্বলজ্বলে আগুন। শপাং করে আওয়াজ তুলে ছুড়ে দিল হিমাংশুর দিকে। সাথে সাথে হিমাংশু তার চোখের সামনে একটা বিশাল বরফের প্রাচীর তুলে দিল। কিন্তু, কি আশ্চর্যজনকভাবে চাঁইটাকে মুক্তার দানার মত কয়েকশো টুকরো করে ফেলল প্রেস চ্যানেল।
গ্রেস শ্যানেলকে আসলে টেক্কা দেয়ার মত ওরকম সুপারহিরো আসেনি বাংলাদেশ থেকে। এটা দেখে সবার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। রিশাদ এবং জাহেদ পরপর কয়েকবার গুলি ছুড়ল এবং আরবিতে কিছু একটা বলল। গ্রেস শ্যানেল হেসে তুবড়ি বাজিয়ে যেন উড়িয়ে দিল তাদের। তাই বাকি রইল এদিকে বিহঙ্গ আর রণিন। আকাশ থেকে উড়ে গাইডেড মিসাইল ছুড়লো তারা।ধুলোর আস্তরণ উড়লো কিছুক্ষণ। তাকিয়ে রইলো ভালোভাবেই তার দিকে। আশ্চর্যজনকভাবে গ্রেস শ্যানেল ভালোভাবেই বেঁচে ফিরল।
বর্ধক হুট করে বড় হয়ে গ্রেস শ্যানেলের উপর গিয়ে দিয়ে ইচ্ছে মতো পাড়া দিল। শ্যানেল সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। মনে কোনো ভাবান্তর নেই। তা দেখে শামীম বললেন, "আরে বুলেট প্রুফ নাকি? এতো বড়ো হাতের ওজন খাওয়ার পরেও ভাঙছে না তার হাড়গোড়। মচকাচ্ছে না। ওকে তো আমার মিউটেন্ট এর মতই লাগছে।"
এমন সময় হুট করে মেজর বাংলাদেশ দৌড়ে এলো। এমন জোরে একটা ঘুসি মারল উড়ে গিয়ে ইজরাইলের আকাশের দিকে চলে গেল।
"বাংলাদেশ এর পোলা আমি। যেদিক থেকে এসেছো সেদিকেই তোমাকে পাঠিয়ে দিয়েছি। এবার বোঝো ঠ্যালা।"

Post a Comment

Previous Post Next Post