এজেন্টস অব ডি: গাজা স্ট্রাইকস || পর্ব-৫|| ইভেন্ট-ডুম ইন ইজরায়েল

পরদিন সকালবেলা ঘুম ভেঙ্গে গেল সবার। এজেন্ট শরীফ বললেন, "সবাই যেভাবে হোক এখনই ইসরাইলের দিকে রওনা দিতে হবে। ভয়ংকর কান্ড ঘটে যাচ্ছে।"
এজেন্ট রিশাদ এবং জাহেদ একসাথেই উঠেছে।দুজন দুজনের দিকে তারা চোখাচোখি করলো। জিগ্যেস করল কি ঘটেছে। জাহিদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন এজেন্ট শামীম।
"আমাদেরকে মারার জন্য তিনটা থেকে চারটা ভাড়াটে সৈনিক গ্রুপ মানুষ ভাড়া করেছে। তার বদলে আমাদেরকেই গিয়ে ওদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে হবে।
এয়ার ক্র্যাফট ক্যারিয়ার বি এস ৯১ আকাশে উঠে পড়েছে। ইসরাইল ফিলিস্তিনের সীমান্ত অতিক্রম করার সময় মুহুর্মুহু মিসাইল ট্যাংক সব আক্রমণ আসছে। কিন্তু তোয়াক্কা করছে না এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। কারণ এর আছে অত্যাধুনিক আয়রন লেজার প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে সমস্ত লক্ষ্যভেদ করে ফেলতে পারে নিমিষে।
ইসরাইলের ভবনগুলো সব ঘিঞ্জি এলাকার মত। অনেকটা গাজা সিটির দক্ষিণ দিকের অংশের মতো। যেখানে ১১ লাখ শুধু মানুষই থাকে মানে মার্কেট দোকানপাট সবকিছু। তো এয়ার ক্রাফ ক্যারিয়ারটা যখন তার ছায়া ফেলল ইসরাইলের মাটিতে তখনই সাথে সাথে সেখানে লেগে গেল ধুন্দুমার কান্ড। সবাই ভেবেছে কি বহির্বিশ্ব থেকে কেউ কি আক্রমণ করছে নাকি।
প্যারা গ্লাইডিং করে রিশাদ এবং জাহিদ আগেভাগে নেমে গেল। চতুর্দিক থেকে বারুদ বৃষ্টি আসল। গুলির ছাটে পিছিয়ে যাওয়ার জোগাড়। তারপরও তারা সেগুলোকে গ্রাহ্য করল না। তাদের কাছে ডিটেকশন ডিভাইস গুলো অত্যন্ত আধুনিক টাইপের এবং তারা খুঁজে বের করল পিরেম শানেদের হেডকোয়ার্টার। ওদিকে বর্ধক, হিমাংশু এবং বাকিরাও খুব দ্রুত নেমে গিয়েছে।
একটা তলা থেকে ওরা ঢোকার চেষ্টা করছিল। কিন্তু চারপাশে অনেক অনেক গার্ড দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে একটা স্মোক বোম ছুঁড়ে দিল। তৃতীয় তলা থেকে হুট করে ধোঁয়াটা ছড়িয়ে গেল। চারপাশে যতগুলো গার্ড ছিল তারা সবগুলো মাথা ঘুরে পড়ে গেল। কিন্তু দিয়ে ওঠার সময় ধরা পড়ে গেল জাহেদ। কয়েক পশলা বৃষ্টি এল। মাথা নিচু করে ফেলল জাহেদ এবং কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকলো। এরপর দুটো গুলি ছুঁড়লো ফাঁকা জায়গায় এবং সেখান থেকে আবার কয়েক পশলা বৃষ্টি ছুঁড়লো কেউ।

একটা তলা থেকে ওরা ঢোকার চেষ্টা করছিল। কিন্তু চারপাশে অনেক অনেক গার্ড দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে একটা স্মোক বোম ছুঁড়ে দিল। তৃতীয় তলা থেকে হুট করে ধোঁয়াটা ছড়িয়ে গেল। চারপাশে যতগুলো গার্ড ছিল তারা সবগুলো মাথা ঘুরে পড়ে গেল। কিন্তু দিয়ে ওঠার সময় ধরা পড়ে গেল জাহেদ। কয়েক পশলা বৃষ্টি এল। মাথা নিচু করে ফেলল জাহেদ এবং কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকলো। এরপর দুটো গুলি ছুঁড়লো ফাঁকা জায়গায় এবং সেখান থেকে আবার কয়েক পশলা বৃষ্টি ছুঁড়লো কেউ।
এদিকে রণিন এবং বিহঙ্গ দুজন মিলেই বেশ সাহস নিয়ে উড়াল দিলো। চারপাশ থেকে গুলি আসছে। অনবরত। তারা সেগুলো কাটিয়ে উঠছে ঠিকই কিন্তু কখন না জানি আবার বিহঙ্গের পাখা পুরো ঝাঝরা করে দেয়।তারা। কিন্তু বিহঙ্গ সেই পাখা বুলেট প্রুফ করে এসেছে। বিহঙ্গের পাখা থেকে বেশ কয়টা গ্রেনেড নিচে ছুঁড়ে দিল এবং চারপাশে ফুটলো। কিন্তু বিল্ডিং এর গায়ে লাগলো না যার কারণে ওখানে জানালাগুলো ভেঙে গেল এবং ঢোকার মত একটা রাস্তা হয়ে গেল। বাকিরাও সেখানে ঢুকলো এবং শরীফ, শামীম তাদের দুজনের হাতে রিভলবার আছে। হুট করে সামনে দুজনকে দেখা গেলো। একই সময়ে দুটো বুলেট ফেলে দিল মানুষ দুটোকে।
"ফুহ!" শরীফ, শামীম একই সময়ে নিখুঁতভাবে ফুঁ দিলেন তাদের পিস্তলে।
এরপর দেখা গেল চারজন দৌড়ে আসছে। তাদের পেছন পেছন আসছে আরো দু ডজন। একটা জায়গা থেকে দুই প্রধান কমান্ড দিলেন। পকেট থেকে বের করলেন একটা চকলেট বোমা। চকলেট এর মত সেগুলো ছড়িয়ে দিতে প্রফুল্লমনে হাসতে হাসতে বোমার বিকট বিস্ফোরণ হলো।এবং চারজনই হাঁটু চেপে ধরে চিৎকার করতে শুরু করল।
তাদের দুজনকে চারপাশ থেকে ঘিরে কাভার দিচ্ছে আরমিন, আসিফ, সাদিয়া, অঙ্গার মানব। অঙ্গার হুট করে গলিত লাভার মতো বয়ে গেলো সামনের এক ডজনের ওপর। আর্তনাদ করতে করতে ইসরাইলি গার্ড সেখানেই চোখের সামনে প্লাস্টিকের মতো গলে গেলো।
এদিকে মেজর বাংলাদেশ হেলিকপ্টারের আওয়াজ শুনে দৌড় দিয়েছে হেলিপ্যাডের দিকে। বুঝতে পেরেছে, যে মেয়েটি উপরে গ্রেস শ্যানেল নামে যে মেয়েটি বসে আছে তাকে যদি চেপে ধরা হয়, যে কোন সমস্ত ধরনের ইনফরমেশন পাওয়া যাবে দ্রুত পিরেম সম্বন্ধে। তাই দ্রুত সে সেখানে ঢুকতেই দেখা গেলো গোটা অফিসে কেউ নেই। তার মানে একদম কেউ নেই? কিন্তু এতো সম্ভব নয়। তাই সে আরো দৌড়াদৌড়ি করে একেবার উঠে পড়লো ছাদে। তখনই দেখল যে পিরেম শানেদ চলে যাচ্ছে। কিন্তু একি! গ্রেস শ্যানেল দড়ি দিয়ে যে মারতে আসছে। এদিকে সব সদস্য মোটামুটি উপরে চলে এসেছে লিফটের মাধ্যমে। আর এদিকে সাথে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে একটা ফিউশন বক্স নিয়ে। হঠাৎ করে একটা বৃত্ত তৈরি করল। বৃত্তটা থেকে আমরা যেমন মোবাইলে একটা একটা ফাইল থেকে অনেক কপি করি। ঠিক তেমনভাবে সে বৃত্তগুলো থেকে এক একটা করে ভবন, স্থাপত্য বের করতে লাগলো। একটার পর আরেকটা বৃত্ত কপি করা শুরু করল এবং সে সেটা ছড়িয়ে দিতে লাগলো। আকাশ থেকে প্রচন্ড পরিমাণ বেগে একটা কিছু ঠিক ঠিক ওই বিল্ডিংটার পাস্ট ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পরল। মানে দখলবাজ ইসরায়েলের আরেকটা জোচ্চুরি! একটা করে ভবন কপি হতে লাগলো। বিল্ডিং গুলো খালি জায়গাগুলো ভরে দিতে শুরু করলো এবং এভাবে ভরাতে ভরাতে দেখা গেল গাজা সীমানা পর্যন্ত বিল্ডিং হয়ে গেল। এতগুলো বিল্ডিং এর স্থাপনা দেখে তারা বুঝতে পারল পিরেমের মনে এই ধরনের অভিসন্ধি ছিল।
রিশাদ রাইফেল এজি-২৩ তাক করে বললো শ্যানেলকে, "পিরেম শানেদ কোথায় শ্যানেল?"
গ্রেস শ্যানেল বলল, "হা হা হা! ওকে আর পাওয়া যাবে না নাটু। ও এখন মহান নেতা নেতানিয়াহুর কাছে গেছে। তো আমাদের ইদ্রির যে পাওয়ার আছে, সে শক্তিটাই আজকে দেখালো। গুড়িয়ে দেবে ফিলিস্তিনের সবকিছু। প্রত্যেকটা জায়গা ধ্বংস করে দেব এবং সেই সাথে সেখানে আমাদের বসতি স্থাপন করব।"
এটা দেখেই মেজর বাংলাদেশ একদম ২৫ তলা থেকে লাফ দিলো। এরপর কপি হওয়া সমস্ত ভবনের প্রত্যেকটা পিলার ভেদ করে করে নিচে নামালো। একটা একটা ভবন গুঁড়িয়ে দিতে লাগলো। ব্যস হয়ে গেল ম্যাসাকার।
শ্যানেল দাঁত কিড়মিড় বলল, "শয়তানের বাচ্চারা তোরা আমাদের থেকেও এককাটি সরেস হয়েছিস দেখছি।"
গ্রেস শ্যানেল হাতের পাশেই আগুনে চাবুকটা বের করে ঘুরাতে লাগলো। কিন্তু অঙ্গার মানব একটা ক্রুর হাসি হেসে তার সামনে দাঁড়ালো। তাকে দেখে গ্রেস শ্যানেল বলল, "এই কয়লার খনি, সরে দাঁড়াও।"
সাথে সাথে অঙ্গার গলা চেপে ধরলো তার। অমনি গ্রেস শ্যানেলের মনে হল হাজারটা পৃথিবীর আগুন তার শরীরে জ্বলে উঠলো।
জ্বলন্ত অঙ্গারে পরিণত হওয়ার পর গ্রেস মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো। একটা টোকা দিলো অঙ্গার তাকে।
এজেন্ট শরীফ চিবুকে হাত বোলাচ্ছেন। শামীম পাশে এসে দাঁড়ালেন। বললেন, "এই সংঘাতের শেষ নাই।"
শরীফ বললেন, "তাই তো মনে হচ্ছে। রেড ব্যাটেলিয়নকে ডাকতে হচ্ছে। শেষ হইয়াও হইলো না শ্যাষ।" (সমাপ্ত)

Post a Comment

Previous Post Next Post