দ্বিতীয় পৃথিবীঃ দশবজ- দ্য লাইটনিং ফিউরিজ || pdf

মির্জা- শক বজ্র
তাহসিব- আর্থিং বজ্র
ফিমা- অদৃশ্য বজ্র
রিজু- শীতল বজ্র
জন- মগজ বজ্র
বিশ্বজিৎ- ধ্বংস বজ্র
মৃদুলা- উড়ন্ত বজ্র
তারেক- ঝড় বজ্র
ক্রিস্টিনা- বৃত্ত বজ্র
রিফাত- গতি বজ্র


নিথর নিশ্চল দেহের দিকে তাকিয়ে আছে রিফাত। সাথে তারেক দাড়িয়ে আছে। প্রায় দশ মিনিট হলো তারা দাঁড়িয়ে আছে। ঢাকারর নিউমার্কেট এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে। এক দিকে গাড়ির রাশ। আরেক দিকে এদিকটায় খুব নিস্তব্ধ। এক রিকশাওয়ালা ছাড়া শুধু  দুজন দাঁড়িয়ে আছে। রিকশাটা দেখতে কিন্তু আমাদের প্রচলিত রিকশা নয়। তিন চাকারই, তবে চারপাশটা স্টিল বডি দিয়ে কাভার করা। আর চালকের আসনে একটা অ্যান্ড্রয়েড। যান্ত্রিক মাথা কুতকাত ঘুরিয়ে বলছে এইডা কিরকম মানুষ?!

হাত দিয়ে রিফাত আর তারেক তুলে নিতেই শরীরটা নড়ে চড়ে উঠলো। চাইনিজ টাইপ চেহারা। চোখ পিটপিট করে খুলতেই দুজন "আউক" করে পেছিয়ে এলো।

-শানি ম্লা মিন আওউয়া
-হোয়াট?! এক্সকিউজ মি।
-আই সেইড ডোন্ট টাচ মি।
-হু আর ইউ?!
-অউং শান হ্লাইয়াং, অ্যান্ড হোয়াট ইজ দিস প্লেস?
-ঢাকা নিউমার্কেট।
-ক্যান ইউ টেল মি হোয়াট ইয়ার ইজ দিস?
-অবভিয়াস দিস ইজ ৩২৩২।

এক ঢোক গিলে চোখ বড় বড় করে চারপাশে তাকালো সে। একলাফে হাজার বছর টাইম ট্রাভেল করে সে নতুন পৃথিবীতে চলে এসেছে। এটা আর্থ ২। বেশি অ্যাডভান্সড। চারপাশ দেখে নিজেকে প্রাচীন মিয়ানমারের কোনো অধিবাসী মনে হলো। রাগে আধুনিক রিকশা ধরে আলগিয়ে ফেললো। অ্যান্ড্রয়েডটা ভয় পেয়ে ততোক্ষণে পালিয়েছে।

-আ আ আ আ। অউং এর হিট জেনারেশনে ফুয়েল পাম্প ওভার চার্জড হয়ে বুম করে ব্লাস্ট করলো।
-হোয়াট দ্যা... বলে তারেক সটান দাঁড়িয়ে গেলো। তার চারপাশ কালো হয়ে আসছে। কড় কড় করে বাজ পড়ছে। ছোট্ট খাট্টো টর্নেডো যেনো। ওদিকে রিফাত ও ঝড়ের গতিতে অউং এর চারপাশে ঘুরতে শুরু করলো। অউং চার্জিং করতে লাগলো।

হুশশ করে আগুন ধরে গেলো। তারেক ভড়কে গিয়ে পেছালো। আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়ারপিসে ডাক দিলো সে,
-শীতল বজ্র কাম ইমিডিয়েটলি টু নিউমার্কেট!

দশবজ্র টিমের কাছে খবরটা চাউর হয়ে গেছে ততোক্ষণে।

রিজু এসে পৌছানোর পর আগুন পানি করে দিলো। রিফাত, তারেক চারপাশ দেখতে লাগলো।
-আরে বার্মিজ টা পালিয়ে গেছে দেখছি।

সন্ধ্যার দিকে খবর এলো কে যেনো বসুন্ধরা সিটিতে এক দোকানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে গেছে। কাউন্সিল সভা ডাকলো। প্রধানমন্ত্রী টিভিতে বারবার ক্ষমা চাইতে লাগলেন। দেশবাসীর কাছে। নিউমার্কেট এর অপূরনীয়  ক্ষতির জন্য এক রাতেই নতুন দেয়াল আর চৌকি বসানোর কথা বললেন।

অউং মিন আধুনিক ঢাকার এমন এক জায়গায় এলো জায়গাটা ঘন বসতি নয়। একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া। এখন রাত। স্বভাবতই সকল কর্মী, বিশেষ করে একবিংশ শতকের মতো নয়। এখানে সবাই অ্যান্ড্রয়েড। এরা কাজ করে বিকালে র‍্যাকে ফিরে যায়। অউং মিন একটা পরিত্যাক্ত জায়গায় ঢুকে দেখলো কিছু মানুষ দল বেধে বসে আছে। চোখে প্রশ্ন নিয়ে এগুতে গেলেই দেখতে পেলো একজন হাত দেখিয়ে থামতে বলছে। ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলো তাকে-
-তুমি কে?
-অউং মিন। একবিংশ শতাব্দীর মানুষ আমি।

সাথে সাথে তাকে একটা কালো ছায়া এসে চেপে ধরলো।
-শক্তি নাও। ধ্বংস করো এই যন্ত্রের শহর।

মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে লাফিয়ে সে বেরিয়ে পড়লো জায়গাটা থেকে। এখনকার যে মোহাম্মদপুর এলাকা সেখানে এলো। বিশাল একটা চিৎকার দিলো। আস্তে আস্তে তার শরীরটা বড় হতে লাগলো। ধুপধাপ পা ফেলে পিষে দিতে লাগলো ভবনগুলো। বলা নেই কওয়া নেই দাঁড়িয়ে গেলো রাজপথে। এরপর মনের শক্তিতে ভবন আলগাতে লাগলো। চলছে ধ্বংসলীলা। দ্বিতীয় পৃথিবীর ঢাকা শহর পড়েছে বিপদে।

মৃদুলা, উড়ন্ত বজ্র উড়ে এলো। কড়ম কড়ম করে বজ্রপাত হলো। অউং শান ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়লো রাস্তায়। একে একে বাকি বজ্ররাও এসে পড়লো। এমন বিশাল শরীরের কারণে চারপাশ থেকে চেপে ধরলো সবাই। অউং শান মাটি আঁকড়ে ধরে রাখলো। মুহুর্মুহু বজ্র আক্রমণ। শক, উড়ন্ত, শীতল, আর্থিং, মগজ, অদৃশ্য, ধ্বংস, গতি, ঝড়, বৃত্ত সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো। এমন আক্রমণে আরো আক্রোশে তুমুল উদ্যমে অউং শান তাপ বিস্ফোরণ করলো ওয়েভে। শীতল বজ্র তীব্র জমানো বরফের আচ্ছাদনে ঢেকে দিলো। হঠাৎ ধ্বংস বজ্র চেপে ধরলো।
ঝনঝন করে ফেটে পড়লো অউং শান। ধ্বংস হয়ে গেলো।

সাল ৩২২৩। সুন্দর ছিমছাম ঢাকা শহর। এটা পৃথিবী নয়। দ্বিতীয় পৃথিবীর ঢাকা। অবাক বিস্ময়ে চমকে সবাই দেখছে সদ্য বিধ্বস্ত এক স্থান যেখানে একটু আগেও ছিলো এক বিশাল দানব। সেই দানব মিলিয়ে গেছে বাতাসে। আকাশে স্বাধীন বাতাসের ঘ্রাণ। মুক্ত আকাশের কোণায় মেঘের ঘনঘটা। সেই মেঘ থেকে যেনো বেরিয়ে আসবে বজ্র। যে বজ্রে কেঁপে উঠে বুক। সেই বজ্রের শক্তিতে ভর করে থাকা দশটি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে দিনশেষে। নতুন অন্যায় রুখে দিবে বলে।

Post a Comment

Previous Post Next Post