এক.
অন্তুর দিন ভালোই কাটে। ফার্স্ট ক্লাস এয়ার কমোডোর। পাইলট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর। খুঁজতে গেলে এমন দক্ষ চৌকস পাইলটের দেখা কোথায় পাওয়া যাবে? এর চেয়ে বড়ো কথা অন্তু অন্য নামে পরিচিত বাংলাদেশ জুড়ে। অনুমানব।
দুই.
অন্তুর দিন ভালোই কাটে। ফার্স্ট ক্লাস এয়ার কমোডোর। পাইলট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর। খুঁজতে গেলে এমন দক্ষ চৌকস পাইলটের দেখা কোথায় পাওয়া যাবে? এর চেয়ে বড়ো কথা অন্তু অন্য নামে পরিচিত বাংলাদেশ জুড়ে। অনুমানব।
হ্যাঁ। বলছিলাম অনুমানবের কথা। হুট করে চিন্তা করলো হ্যাং আউট করবে স্ত্রীকে নিয়ে। যেই ভাবা সেই কাজ। চলে এলো থানচিতে। বিশাল সব পাহাড়ের দেশ খাগড়াছড়ি। এখানে বেড়াতে এলেই যেনো মন ভরে যাবে। তাই, মনে মনে বেড়ানোটা পুষিয়ে রেখে, বিয়ের পরই ঘুরতে এলো সে।সারাদিন পাহাড় ডিঙিয়ে এখন সাজেকে।
ঠিক সেদিনই এলো এক মাহেন্দ্রক্ষণ। বাংলাদেশ নাম লেখালো মহাকাশ যাত্রায়। বাংলাদেশী অভিযাত্রী তনয় ইসলাম রওনা দিয়েছে মহাকাশের পথে। স্পেসশীপ শনি গ্রহ পাশ কাটিয়ে যাবে। কন্ট্রোলে একজন রুশ আর একজন এমেরিকান আছে। কম্পার্টমেন্টে তনয় বসে আছে। এমন সময় ঝাঁকি খেয়ে উঠলো স্পেসশীপ। এই ঝাঁকি ইন্টারগ্যালাকটিক স্পেস শক নয়। তনয় উঠে দাঁড়ালো। এমন সময় তীব্র আলোর ঝলকানি। আর কিছু মনে নেই।
দুই.
সাজেকে রাতে থাকতেই অন্তু খবরটা পেয়েছে। যদি আরো আগে সেন্স করতে পারতো তাহলে হয়তো মহাকাশে উড়ে গিয়ে বাঁচাতে পারতো। এখন আবার পড়েছে মহা ঝামেলায়। স্পেস নোটিফায়ার ডিভাইসে লাল বিপ জ্বলছে। এটার মানে ভিনগ্রহের কেউ প্ৃথিবীর কাছে আসছে।
স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়তেই চিরচেনা স্যুট পড়ে বেরিয়ে এলো অন্তু মাটি থেকে পাঁচ ফিট উপরে উঠে তাকিয়ে রইলো নিচের দিকে। এর ও হাজার ফিট উপরে উঠে এলো এবার। আরো পাচশ ফিট। চোখ বড়ো বড়ো করে দেখলো সবুজ দেশকে। বলা নেই কওয়া নেই কিছু একটার বাড়ি পড়লো তার মাথায়। মাথা চেপে ধরে নীচের দিকে পড়তে লাগলো। এরপরই আবার সজোরে লাথি খেলো। উপরে উঠে দম আটকে গেছে মনে হলো। কে যেনো টুটি চেপে ধরলো তার। হাস ফাস করছে।
গলা ছেড়ে দেয়ায় সজোরে মাটির দিক পড়তে শুরু করলো অন্তু। ভুউম!
পুরো শরীর থেঁতলে সেখানেই মারা গেলো আমাদের অনুমানব।
বেতবুনিয়া থেকে সব এতোক্ষণ দেখা হচ্ছিলো। সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশাল এক রেসকিউ টিম ছুটে এলো। মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে। সবার ভেতর শোক। শোকে পাথর হয়ে গেছে অন্তুর স্ত্রী। দেশের দুই মেধাবী একসাথে মারা যাওয়ায় এক সপ্তাহব্যাপী শোক পালনের অধ্যাদেশ জারি হলো। কিন্তু কেউ কি জানতো যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে?
তিন.
চোখ খুলে অসম্ভব ও অসহ্য ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠলো তনয়। প্রথমে মনে হয়েছে সে এক স্বর্গে আছে। কিন্তু না। কিছু মানুষের মতো প্রাণীকে দেখা যাচ্ছে। একজন তাকে হাতে ধরে তুলে নিলো। ব্যাথা সয়ে আসার পর ভালো করে তাকিয়ে দেখলো সে এটা পৃথিবী নয়। বুঝতে পারলো অন্য কোন গ্রহে এসেছে।
-কে তুমি আগন্তুক?
-আমি তনয়। পৃথিবী নামের গ্রহ থেকে এসেছি। এটা কোন গ্রহ?
-সেরিনা।
-আহহ! ব্যাথায় মুখ কুচক যাচ্ছে তনয়ের।
কয়েকটা দিন বিশ্রামের পর গ্রহটাকে জানার চেষ্টা করতেই তার মনে হলো এই গ্রহের মানুষজন পৃথিবীর মানুষদের চেয়ে অত্যধিক বুদ্ধিমান।
কাউন্সিল বসলো তনয়কে নিয়ে। এক পক্ষ চাইলো তনয়ের মেমরী ফ্ল্যাশ করে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেবে। আরেক পক্ষ চাইলো মৃত্যুদন্ড দিয়ে পরপারে পাঠাতে। এই দ্বিধার মাঝে কাউন্সিল স্পিকার ইতস্তত বোধ করছেন। কি করবেন? কিভাবে মেরে ফেলবেন একজন মানুষকে?
যখন সময় এলো রায়ের, স্পিকার নড়ে চড়ে বসলেন। ভরাট গম্ভীর গলায় বললেন- "যাবজ্জীবন কারাদন্ড"!
হতাশায় মুষড়ে পড়লো তনয়। আর ফিরে যেতে পারবেনা তার গ্রহে। রায় শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো কারাগারে। সেদিনের সেই লোক- জুলামান, তাকেই তনয়ের কেয়ারটেকার করা হলো।
চার.
ধাম! ধাম! ধাম! ধাম!
চোখ খুলে কারাকক্ষ থেকে গারদের সামনে চলে এলো তনয়। পায়ে হিউম্যান ট্র্যাকিং ডিভাইস বাধা। টিট টিট আওয়াজ করে জ্বলছে। সামনে লোকটা জুলামান।
-বলুন।
-তনয় তুমি জানো না তোমার ভেতর কি পরিমাণ অপরীসীম শক্তি আছে।
-কি বলতে চান পরিষ্কার করে বলুন।
-বলতে চাই তুমি আণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে গেছো।
-বলেন কি? কিভাবে সম্ভব।
-তোমাকে ভুল কথা বলে আটকে রেখেছে। এদিক তোমার বাম পা টা দাও।
খুলে দিয়ে দু হাত ঘুরিয়ে জুলামান কিছু একটা ইশারা করলো।
জুলামান সরে আসতেই তনয় একটা ওয়েভ প্রেশার তৈরি করে হাত দুটো সামনের দিকে বাড়িয়ে দিলো। সে দুটো হাত থেকে চোখ ধাধিয়ে যাওয়ার মতো এক আলোর জন্ম হলো।
পাঁচ.
বুউম!
পাঁচ হাজার টন শক্তি সম্পন্ন আণবিক বিস্ফোরণ হলো যেনো কারাকক্ষে। জুলামান ভান ধরে শুয়ে পড়েছে। কাধের কাছটায় কিছুটা ছলে গেছে। তনয় উড়ে গিয়ে হেড কোয়ার্টার এর গেটের পাশের খালি জায়গায় পৌছাতেই শত শত ভেলোকপ্টার এসে পৌছালো।
"স্ট্যান্ডডাউন"!
এইম নেয়ার সাথে সাথে তনয় একটা রক্ষণ বলয় তৈরি করলো।
জুম জুম জুম জুম করে লেজার রশ্মির গুলি বৃষ্টি হতে লাগলো। একটা বিশাল সাইজের রোবট আসলো।
"হ্যান্ডস আপ"।
বুম করে হাত থেকে আণবিক পাওয়ার শেল বেরুলো তনয়ের।
হঠাৎ দু হাত প্রশস্ত করে দিলো তনয়।
এমন সময় একজন এলো তার সামনে।
তনয়ের দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "কে তুমি?"
হাত দুটো যেনো শত শত মাইল লম্বা হয়ে দাঁড়ালো। সেই দুহাতের প্রসরণে সে বললো, "আমি অণুমানব। প্রিয় পৃথিবী! আমি আসছি"
নিমিষেই ভেলোকপ্টারগুলি ছাই হয়ে গেলো।
স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়তেই চিরচেনা স্যুট পড়ে বেরিয়ে এলো অন্তু মাটি থেকে পাঁচ ফিট উপরে উঠে তাকিয়ে রইলো নিচের দিকে। এর ও হাজার ফিট উপরে উঠে এলো এবার। আরো পাচশ ফিট। চোখ বড়ো বড়ো করে দেখলো সবুজ দেশকে। বলা নেই কওয়া নেই কিছু একটার বাড়ি পড়লো তার মাথায়। মাথা চেপে ধরে নীচের দিকে পড়তে লাগলো। এরপরই আবার সজোরে লাথি খেলো। উপরে উঠে দম আটকে গেছে মনে হলো। কে যেনো টুটি চেপে ধরলো তার। হাস ফাস করছে।
গলা ছেড়ে দেয়ায় সজোরে মাটির দিক পড়তে শুরু করলো অন্তু। ভুউম!
পুরো শরীর থেঁতলে সেখানেই মারা গেলো আমাদের অনুমানব।
বেতবুনিয়া থেকে সব এতোক্ষণ দেখা হচ্ছিলো। সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশাল এক রেসকিউ টিম ছুটে এলো। মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে। সবার ভেতর শোক। শোকে পাথর হয়ে গেছে অন্তুর স্ত্রী। দেশের দুই মেধাবী একসাথে মারা যাওয়ায় এক সপ্তাহব্যাপী শোক পালনের অধ্যাদেশ জারি হলো। কিন্তু কেউ কি জানতো যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে?
তিন.
চোখ খুলে অসম্ভব ও অসহ্য ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠলো তনয়। প্রথমে মনে হয়েছে সে এক স্বর্গে আছে। কিন্তু না। কিছু মানুষের মতো প্রাণীকে দেখা যাচ্ছে। একজন তাকে হাতে ধরে তুলে নিলো। ব্যাথা সয়ে আসার পর ভালো করে তাকিয়ে দেখলো সে এটা পৃথিবী নয়। বুঝতে পারলো অন্য কোন গ্রহে এসেছে।
-কে তুমি আগন্তুক?
-আমি তনয়। পৃথিবী নামের গ্রহ থেকে এসেছি। এটা কোন গ্রহ?
-সেরিনা।
-আহহ! ব্যাথায় মুখ কুচক যাচ্ছে তনয়ের।
কয়েকটা দিন বিশ্রামের পর গ্রহটাকে জানার চেষ্টা করতেই তার মনে হলো এই গ্রহের মানুষজন পৃথিবীর মানুষদের চেয়ে অত্যধিক বুদ্ধিমান।
কাউন্সিল বসলো তনয়কে নিয়ে। এক পক্ষ চাইলো তনয়ের মেমরী ফ্ল্যাশ করে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেবে। আরেক পক্ষ চাইলো মৃত্যুদন্ড দিয়ে পরপারে পাঠাতে। এই দ্বিধার মাঝে কাউন্সিল স্পিকার ইতস্তত বোধ করছেন। কি করবেন? কিভাবে মেরে ফেলবেন একজন মানুষকে?
যখন সময় এলো রায়ের, স্পিকার নড়ে চড়ে বসলেন। ভরাট গম্ভীর গলায় বললেন- "যাবজ্জীবন কারাদন্ড"!
হতাশায় মুষড়ে পড়লো তনয়। আর ফিরে যেতে পারবেনা তার গ্রহে। রায় শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো কারাগারে। সেদিনের সেই লোক- জুলামান, তাকেই তনয়ের কেয়ারটেকার করা হলো।
চার.
ধাম! ধাম! ধাম! ধাম!
চোখ খুলে কারাকক্ষ থেকে গারদের সামনে চলে এলো তনয়। পায়ে হিউম্যান ট্র্যাকিং ডিভাইস বাধা। টিট টিট আওয়াজ করে জ্বলছে। সামনে লোকটা জুলামান।
-বলুন।
-তনয় তুমি জানো না তোমার ভেতর কি পরিমাণ অপরীসীম শক্তি আছে।
-কি বলতে চান পরিষ্কার করে বলুন।
-বলতে চাই তুমি আণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে গেছো।
-বলেন কি? কিভাবে সম্ভব।
-তোমাকে ভুল কথা বলে আটকে রেখেছে। এদিক তোমার বাম পা টা দাও।
খুলে দিয়ে দু হাত ঘুরিয়ে জুলামান কিছু একটা ইশারা করলো।
জুলামান সরে আসতেই তনয় একটা ওয়েভ প্রেশার তৈরি করে হাত দুটো সামনের দিকে বাড়িয়ে দিলো। সে দুটো হাত থেকে চোখ ধাধিয়ে যাওয়ার মতো এক আলোর জন্ম হলো।
পাঁচ.
বুউম!
পাঁচ হাজার টন শক্তি সম্পন্ন আণবিক বিস্ফোরণ হলো যেনো কারাকক্ষে। জুলামান ভান ধরে শুয়ে পড়েছে। কাধের কাছটায় কিছুটা ছলে গেছে। তনয় উড়ে গিয়ে হেড কোয়ার্টার এর গেটের পাশের খালি জায়গায় পৌছাতেই শত শত ভেলোকপ্টার এসে পৌছালো।
"স্ট্যান্ডডাউন"!
এইম নেয়ার সাথে সাথে তনয় একটা রক্ষণ বলয় তৈরি করলো।
জুম জুম জুম জুম করে লেজার রশ্মির গুলি বৃষ্টি হতে লাগলো। একটা বিশাল সাইজের রোবট আসলো।
"হ্যান্ডস আপ"।
বুম করে হাত থেকে আণবিক পাওয়ার শেল বেরুলো তনয়ের।
হঠাৎ দু হাত প্রশস্ত করে দিলো তনয়।
এমন সময় একজন এলো তার সামনে।
তনয়ের দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "কে তুমি?"
হাত দুটো যেনো শত শত মাইল লম্বা হয়ে দাঁড়ালো। সেই দুহাতের প্রসরণে সে বললো, "আমি অণুমানব। প্রিয় পৃথিবী! আমি আসছি"
নিমিষেই ভেলোকপ্টারগুলি ছাই হয়ে গেলো।