অগ্নিপথ || pdf

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সময় হয়েছে। কোচিং শেষে বাসায় ফেরার সময় তিতলির খেয়াল হলো রায়হান গত দু ঘন্টা ধরে কল দেয়নি। ছেলেটা কোথায় যায় কি করে কিচ্ছু বলে না। অবশ্য ওর দোষ দেয়া যায় না। সেই ডাকাতি এবং অগ্নিকান্ডে পুড়ে ও বেচে ফিরে এসে এক অন্য নামে নাম হয়ে গেছে রায়হানের। অঙ্গারমানব। সরকারের নজরদারিতে সে এখন অতিমানব অ্যালায়েন্সে যোগ দিয়েছে। ম্যাকাপ বা মেটাহিউম্যান কমান্ডো অ্যালায়েন্স প্রজেক্ট সব ধরনের জটিল মিশনে সাধারণত অতিমানবদেরই রাখা হয়। মিশন গুলো টিম ওয়ার্ক এও হয়। আবার, সিংগেল মিশনেও হয়।

ভার্সিটির ল্যাবে বসে রায়হান প্রত্যক্ষ করছিলো কিভাবে কেমিক্যাল বম্ব গুলো ডিফিউজ হয়। ফোন বেজে উঠতেই স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখে তিতলি কল দিয়েছে।
-হ্যালো রায়হান আমি বাসায় যাচ্ছি। তুমি কোথায়?
-আমি ল্যাবে আছি।
-আচ্ছা, বের হওয়ার সময়... গোঁ গোঁ...

লাইনের ভেতরেই চিৎকার। "রায়হান, বাঁচাও"


ল্যাব থেকে এক ছুটে দৌড় রায়হান। বুঝতে পেরেছে উদ্ভট কিছু একটা আক্রমণ করেছে তিতলিকে। রায়হানের একটা টেলিপোরটেশনের সিস্টেম আছে। সে যেখানে আগুন থাকে তার ভেতর থেকে বের হতে পারে বিশ্বের যে কোন স্থানে। এবং ভাগ্যক্রমে যেখানে তিতলির উপর আক্রমণ হচ্ছিলো সেখানে এক জায়গায় স্তুপ করা ময়লা আগুনে পুড়ছিলো। সেখান থেকেই সে বের হয়ে দেখলো কালো কিছু একটা তিতলিকে গিলে ফেলছে।
“তিতলি!”

ল্যাবে অনেকক্ষণ বসে আছে রায়হান ও তার বন্ধু আশফাক। মুখে অনেকক্ষণ শব্দ নেই কারোর। অনেকক্ষণ পর মুখ খুললো রায়হান।
-কিছু একটা করতে হবে।
-কি করবি তুই?! কিছুই কি করার আছে।
-তুই তো প্রোগ্রামার, রাইট?!
-হ্যাঁ। তো?!
-দেখতো স্যাটেলাইট ডিফিউজ করে রেকর্ড থেকে ওই জিনিসটার ফুটেজ বের করতে পারিস কিনা।
-ওয়েট।

দ্রুত হাত চালাতে লাগাতে লাগলো আশফাক কিবোর্ডে। এক ঘন্টা আগের রেকর্ড বের করা কষ্টসাধ্য। কারণ এতো বেশি পরিমাণ ফুটেজ জমা হয়েছে যে প্রতি দশ মিনিট অন্তর অন্তর আপডেট হয়েছে।
-এই তো!
-আরে রাখ রাখ। এই জায়গাটায়।
-ছেলেটাকে চেনা চেনা লাগছে।
-মনে পড়েছে। এই ছেলেটা আমাদেরই ক্যাম্পাসের অ্যাটমিক ফিজিক্সে ইলেক্ট্রোফিউশনের একটা প্রেজেন্টেন্টেশন করেছিলো। ওর মাথা আছে।
- কিন্তু কেনো করলো?!

--------------------------
দশ দিন আগের কথা
--------------------------
জাইফারের ল্যাবে অনর্থক ঘাটাঘাটি স্যারের পছন্দ না। আরে কাজ করবা তো সময় ক্ষেপণ কেনো?
কাজ দিলাম সেটার সাথে আরেকটা সাবজেক্ট কেনো যোগ করলা? এই প্রজেক্টে কাজ করতে গেলে যে অনেক সময় ও টাকা ব্যায় হচ্ছে। যদিও একদিক থেকে ছেলেটা ট্যালেন্ট।
-জাইফার!
একটা তেজস্ক্রিয়তা শোষণের মেশিন তৈরি করছিলো জাইফার। নিউট্রন ও প্রোটনের বেশ কম হওয়াতে সেটা ব্লাস্ট করলো। এমন একটা অবয়ব তৈরি হলো যা জাইফারের হুবুহু। কিন্তু জাইফারের নিজস্ব অবয়ব চলে গেছে। একটা ছায়া পড়ে আছে। কিছুক্ষণ পর ওর নিজস্ব অবয়বে ফিরে এলো।
-অবিশ্বাস্য।

রাতের খাবার খাওয়ার পর জাইফারের মনে হলো ছায়া দিয়ে পাড়ার ভেতরটা দেখবে। অশরীরী হয়ে ঘুরতে গিয়ে দেখলো অসংখ্য তরুণী আছে প্রতিটা বাসায়। কারো ঘুমে অচেতন কাপড় এলোমেলো শরীর দেখে তার কামবোধ জাগ্রত হলো। এর মধ্যে একটা মেয়েকে খুবই ভালো লাগলো। সে রায়হানেরই প্রেমিকা তিতলি।
--------------------------
দশ দিন পরের কথা, আজ
--------------------------


রায়হান, অঙ্গারমানব প্রস্তুতি নিচ্ছে কিভাবে ছায়াচোর জাইফারকে ধরা যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জাইফার কোথায় সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। যদি ধরা যেতো তাহলে বেদম মার দেয়া যেতো। অবশ্য আশফাক চেষ্টা করছে।
-পাইছি! শালা নিধুপাড়ায়!!!!
-যাচ্ছি।

আগুনে টেলিপোরটেশন করে  জাইফারের পেছনে পেছনে নিঃশব্দে একটা ওয়্যারহাউজের পেছনে এসে দাঁড়ালো রায়হান। জাইফার ভেতরে যেতেই একটা মেয়ের গলা। কান্নার আওয়াজ! তিতলি!!!
দপ করে একটা আগুনের শিখা জ্বলে উঠলো গুদামের ভেতরে। জাইফার বুঝেও উঠতে পারেনি কি হয়েছে।
-জানোয়ার! রায়হানের চিৎকারে হতচকিত হয়ে জাইফার পিছন ফিরে তাকালো।
-কে তুমি?! কেউ একজন হঠাৎ আলোতে এসে বললো জাইফারকে।
-আমি ছায়াচোর! হা হা হা!
-তোকে আমি আজকে মেরে ফেলবো জানোয়ার! টুটি চেপে ঢরলো রায়হান জাইফারের।
-ছেড়ে দাও। আগন্তুক, লোকটি ইন্সপেক্টর সৈয়দ ফজলুল বললো। ও মারা যাবে।
-না! ও আমার হবু স্ত্রীকে কিডন্যাপ করেছে। রায়হানের হাত ততোক্ষণে অঙ্গারে পরিণত হতে শুরু করেছে।

শেষে জাইফারকে বাঁচাতে ইন্সপেক্টর রায়হানকে ধাক্কা দিলেন। রায়হান ছিটকে গিয়ে সরে গেলো।

-দেখে নেবো হিরো। হাহাহা। বলেই জাইফার বাতাসে মিলিয়ে গেলো।
-ওকে ধরা যাবে আরেকদিন।

তিতলির বাঁধন খুলে নিয়ে আস্তে আস্তে গুদাম থেকে বের হলো রায়হান। মুক্ত বাতাসে বিজয়ের গান "সব কটা জানালা খুলে দাও না" গাইছে.....

Post a Comment

Previous Post Next Post