এক.
ধানমন্ডির একটি লাউঞ্জ। কিছু ছেলে আড্ডা দিচ্ছিলো এক কোণে বসে। লাউঞ্জের ভেতরে একটি বছর বাইশের তরুণ ঢুকলো। ছোট প্লাস্টিক প্যাকেট রাবার গ্রিপে লক করা। আরেক হাতে পৌঁছে দিলো আড্ডারত ছেলেদের একজনের কাছে। সাথে সাথে পাশের সোফা থেকে তিন চারজন লোক উঠে দাঁড়ালো।
"ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট"।
যে প্যাকেট হাতে নিয়েছিলো সে ড্যামকেয়ার ভাব দেখিয়ে মাঝের আঙুল তাক করে লোকগুলোকে বললো "ফাক ইউ"।
আরেক হাতে স্মার্ট ফোনে ডায়াল হয়ে গেলো,
"রণিন তুই কই?"
রণিন বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর স্পাই ইন্টেলিজেন্স ডি জি এফ আইয়ের স্পেশাল ফোর্স এজেন্টস অব ডি এর এজেন্ট এবং বাংলাদেশেরও সবচেয়ে কমবয়েসি এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ হয়েছিলো।
-বল
-পিবি আই কট।
ত্রিশ সেকেন্ডের ভেতরে লাউঞ্জে চলে আসলো রণিন। মিরপুরে ছিলো। ধানমন্ডি আসতে এতো কম সময় নেয়ায় বেশ অবাকই হলো ছেলেটি। আসলে এটা হয়েছে স্রেফ এক আশ্চর্য জুতোজোড়ার কারণে। এই জুতায় ভর করে সে উড়ে এসেছে। ওদিকে সাদা পোশাক ধারীরা হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ফেলেছে সবকটাকে। রণিন বেশ ঠান্ডা মেজাজের সুরেই চাবির রিং ঘোরাতে পালের গোদার সামনে এসে বললো,
"হ্যালো অফিসারস"
লোকটা স্বাস্থ্যবান। আস্তে করে শরীর ঘুরিয়ে রণিনকে মেপে নিলো।
"কে হে ভাই তুমি?"
সাথে সাথে পরিচয়পত্র বের করে দিতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো সাদা পোশাকধারীদের।
-ফ্রি দেম আপ
-না। ওরা ড্রাগস সাপ্লাইয়ে ছিলো।
-নো। ওদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিলো। ড্রাগসটা ডি টাওয়ারে নিয়ে যেতে হবে। তাই ট্রান্সপোর্ট করা হচ্ছিলো।
-বিশ্বাস করি না। আর আপনি কেনো এখানে এজেন্ট?
বাকিরাও অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে রণিনের দিকে।
রণিন ঠান্ডা মেরে অফিসারের দিকে তাকিয়ে আছে। বললো, "ভালোয় ভালোয় প্যাকেট হস্তান্তর করুন।"
অফিসার এবার ক্রুর হাসি দিয়ে রণিনের হাত খপ করে ধরলো। হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ধাক্কা দিলো দরজার সামনে।
"চলো চান্দু শ্বশুরবাড়ি"
দুই.
সামরিক এলাকা, ঢাকা। যাকে এক অর্থে ঢাকা সেনানিবাস বলা হয়। সেখানে ডি টাওয়ারে দেশের একমাত্র সামরিক ইন্টেলিজেন্স ডিজিএফআইয়ের স্পেশাল ফোর্স এজেন্টস অব ডি এর সদর দপ্তর।
ডিরেক্টর মেজর তালহার সাথে আলোচনা করছিলো এজেন্ট শরীফ। নতুন রিক্রুটমেন্ট দরকার।
-স্যার, আস্তে আস্তে নিয়েন। শরীফ বললেন।
-হুম, পরীক্ষা দিয়েই না তবে আসবে তারা। আচ্ছা রণিন কোথায়? ভুরু কুঁচকে মোবাইলে ডায়াল করলেন।
ওপাশ থেকে আসলো আওয়াজ-
-হিলো কে
মোবাইল কান থেকে সরিয়ে শরীফের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন মেজর। রণিনের গলার জায়গায় এক গ্রাম্য কন্ঠ শোনা যাচ্ছে।
-রণিন কোথায়?
-কে আসামি? ওকেতো জেলে ভরাইয়া দিছে।
-আপনি কে?
-আমি হারুন মিয়া। ধানমন্ডি থানার কন্সটেবল।
মুহুর্তের ভেতর চাউর হয়ে গেলো। ডি জি এফ আই থেকে প্রশাসনে কল গেলো যে এজেন্ট রণিন গ্রেফতার হয়েছেন। প্রশাসন দিলো চাপ ধানমন্ডিতে। এজেন্ট রিশাদ, জাহেদ ও আসিফ থানায় পৌঁছে গেলো। গিয়ে দেখলো এক লোক টেবিলে পা তুলে বসেছে।
-এই যে মিস্টার। তোমার ব্যাজ দেখাও।
লোকটা এক চোখ খুলে বললো,
-হু আর ইউ?!
ব্যাজ দেখেও লোকটা পাত্তা দিলো না।
-আপনারা এজেন্ট হোন আর যাই হোন রণিন ড্রাগ রিলেটেড ব্যাপারে আটকে গেছে। স্যারি।
এমন বেয়াদবি দেখে জাহেদের মাথা গেলো গরম হয়ে। -শুয়োরের বাচ্চা তুই কার সাথে ভেজাল করতেছস জানস?
-দেখেন যেই হোন এখানে কারো হ্যাডম দেখে আমরা আতিথেয়তা করি না। অফিসার বললো।
-তোরে... লোকটার কলার চাপ দিয়ে ধরে ফেললো আসিফ।
-হেহে। লোকটা বিশ্রি একটা হাসি দিলো। প্রশাসন থেকে অর্ডার আসলে তারপরেই ছাড়বো।
থানা থেকে তিনজন বেরিয়ে এলো চোখ লাল করে। রণিন জেলে এটা যেনো ভাবতেই পারছেনা জাহেদ। ওদিকে থানার লোকটা, ওসি শমসের একটা নাম্বার ডায়াল করলো।
-ডক্টর।
-হ্যা শমসের বলো।
-রণিন কট।
-গুড জব ওসি।
ফোনের ওপ্রান্তের মানুষটা ডক্টর ইকবাল। এজেন্টস অব ডি এর চিরশত্রু।
তিন.
ডক্টর ইকবাল বদরুকে সারিয়ে তুলেছে আজ তিন সপ্তাহ। যদিও গোপন সংঘ বদরুর সমস্ত ড্রাগ ফ্যাক্টরি ধ্বংস করেছে, পকেটে থাকা তিনটা স্যাম্পলই যথেষ্ট। আই-কে আর্মিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনাও মাথায় আছে।
-ভাই। আপনি আমার ভাই।
-হাহাহা। এই দুনিয়ায় কেউ কারো আপন নয় রে।যতক্ষণ শ্বাস ততোক্ষণ আশ।
ল্যাবে ট্যাবলেট রিস্যাম্পলিং এর কাজ হয়েছে গত দু সপ্তাহে। একে উন্নত করে নিউ জেনারেশন সুপারপাওয়ার ড্রাগ করার একটা উপায় এসেছে। সেদিকটা পরে চিন্তা করবে, আসল চিন্তা আপাতত এজেন্টস অব ডি। রণিনকে মনোযোগের কেন্দ্রে রেখে ফাঁকতালে প্রচুর সেন্ডিন বানাতে হবে। বিশাল আইকে-আর্মির জন্য।
ডি টাওয়ার। ডি জি এফ আই এর স্পেশাল ফোর্স এজেন্টস অব ডি এর সদর দপ্তর। ডক্টর তানভীর সকাল থেকে বোঝাচ্ছেন ড্রাগের ব্যাপারটা। ছড়িয়ে গেছে গোটা শহরে।
-আচ্ছা। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
ডি এর ভ্যান টা বিশাল। একটা আদর্শ ক্যারাভ্যানে যা থাকা দরকার সবই আছে। রিশাদ, জাহেদ গুম মেরে বসে আছে। শরীফ ঢুকতেই চোখ ফেরালো দুজন।
-পারোনি ছাড়াতে?
-না।
-ছাড়বে। ছাড়তে হবে। আসিফ গাড়ি ছাড়ো।
স্টার্ট দিয়ে গাড়ি ধানমন্ডির কাছাকাছি গেলো। এমন সময় সাদিয়া চেঁচিয়ে উঠলো।
-আরে থামো থামো।
-কি হলো?
-আরে ভিজুয়ালাইজ করলাম মাত্র। তোমাদের সাথে যে ইন্সপেক্টরের একচোট হয়েছে সে ইকবালের লোক।
আসিফ হুট করে দাঁড়িয়ে পড়লো। তার এক্সট্রা সেন্সিটিভ কান দিয়ে শুনতে পেলো যেনো বহুদুরের আওয়াজ। "শেষ করো। তছনছ করে দাও"।
চার.
সেদিনের মতো ইনভেস্টিগেশন বন্ধ করে ফিরে আসতে হলো। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সামাল দিতে নতুন সুপার পাওয়ার সমৃদ্ধ লোক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এজেন্টস অব ডি সেই সুবাদে নতুন তিনজনকে নিয়েছে। এরা থার্ড কোর এজেন্ট বা অপারেটিভ। মানে কম্পিউটার মনিটরিং বা ফিল্ড দুটোতেই সমান পারদর্শী।
এদের একজনের শক্তি হচ্ছে ফায়ার বল তৈরি করে ছুড়ে মারা। এর নাম ফারদিন। দ্বিতীয় জন মনন শক্তি দিয়ে মাইনাস ডিগ্রী সেলসিয়াসে বরফ জমিয়ে ফেলতে পারে। এর নাম শিমলা। আরেকজন ওয়েভ পাঞ্চার। মনন শক্তি হোক কিংবা মুখের চিৎকার তরঙ্গ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারে। এর নাম তাইহান।
-ওকে স্প্লিট আউট। তিনজন করে দুটো টিম। আরেকটা দুজন করে। আমি, শামীম, তাইহান। দুই, শিমলা, জাহেদ, আসিফ। তিনে, রিশাদ আর ফারদিন। আর ম্যাপ সাপোর্ট, ভ্যান অপারেটিং এ সাদিয়া।
ধানমন্ডির ওদিকটায় ঢুকতেই শিমলা খচমচ করে উঠলো। হুট করে গা শির শির করে উঠলো তার। লাফ দিয়ে সামনের একটা রিকশার উপর দিয়ে পাশের গলিতে হারিয়ে গেলো। জাহেদের দিকে বেকুবের মতো তাকিয়ে আসিফ বললো, 'কি হলো'?
গলির ঠিক উপরেই ধোঁয়া দেখা গেলো। পড়িমড়ি করে ছুট দিয়ে দেখলো আসিফ আর জাহেদ, পিঠ পিছে দিয়ে কোমর ধরে দাঁড়িয়ে আছে শিমলা। আর সামনেই বরফ জমে কাঠ একজন।
-কি করে ফেলেছো? জাহেদ বলে উঠলো।
-বদমাশ সেন্ডিন অ্যাডিকটেড। আমার দিকে আগুন ছুড়ে মারতে চেয়েছিলো।
"অ্যাটেনশন অল ইউনিট, গেদার ইউরসেল্ফ ইন ফ্রন্ট অব ধানমন্ডি ৭"
ঘুরে দৌড় লাগালো তিনজনে। ইয়ারপিসে যে গলা শুনেছে সেটা সাদিয়ার কাঁপা কাঁপা গলা। এক ছুটে এসে দেখে ক্যারাভ্যানের সামনে পেছনে মাটি দেবে বসে গেছে। দুই হাত দিয়ে এরা তিনজন ঠেললেও লাভ নেই। ততোক্ষণে তাইহান সহ চীফ, ডেপুটি চিফ চলে এসেছে। তাইহান বলে উঠলো,
'মাটি উঠিয়ে আনি, কেমন হবে?'
-উঠাও, ভ্যান আগাবে না।
দুই হাতের তর্জনী কপালের পাশে ঠেকিয়ে দেবে যাওয়া মাটি সমান করে দিলো তাইহান। আসিফ উঠে সাদিয়াকে চেপে ধরলো। "ইকবাল" ট্রমাটাইজ হয়ে গেছে সাদিয়া। ঢোক গিলে শব্দটা উচ্চারণ করতে যেনো বহুবছর লেগে গেলো।
পাচ.
রাত দশটা। ঘুটঘুটে অন্ধকারে একটা আউটফিটের দশাসই শরীর খুব ভারী বুট নিয়ে ঢুকেছে নিঃশব্দে। জায়গাটা একটা বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড। স্যাঁতসেঁতে খুব।
-জাইমা। বলো কিসের কথা যেনো বলছিলে।
-বলছিলাম... মি মিশু তোমার ডানপাশে। অন্ধকারে কি একটা যেন
-কই?!
-হেলো ডিটেকটিভ।
ঝটিতি ফিরে তাকিয়ে বেকুব হয়ে গেলো মিশু। বাংলার সেরা আর্ম প্যাকড গোয়েন্দা হকচকিয়ে গেছে পাশের লোকটাকে দেখে। বদরু। বদরু ইজ অ্যালাইভ। চট করে সরে একটা রদ্দা মারলো। বদরুর হাতে সেটা বাম্প করলো।
-দা ফাক!
-বদরু লিভ হিম। একটা চেনা পরিচিত কন্ঠ। ইকবালের।
-শুয়োরের বাচ্চা! জানোয়ারটাকে বাঁচিয়ে তুলেছিস।
ইকবাল যেনো বিশাল একটা শরীর নিয়ে এসেছে। ফুল্প্রুভ রোবোটিক আরমার্ড। রোবোটিক অ্যাসিস্ট্যান্স ইনটেলিজেন্স।
-আমরাও কম না। ভারী একটা কন্ঠ।
-মেজর স্ট্রাইক। মিশুর মুখে বাকা হাসি। মেজর বাংলাদেশ আলোতে এসেছে।
বিশাল পা ফেলে যেই না ডক্টর সামনে এলো, পঞ্চাশ কেজি ওজনের ঘুষি বাগিয়ে দিলো। ঠাং করে উঠলো ইকবালের বডি স্যুট। তাল সামলাতে না পেরে উল্টে পড়ে গেলো।
ওদিকে বদরু প্রায় চড়াও হয়েছে মিশুর উপরে। মনন শক্তি দিয়ে প্রায় বেধে ফেলেছে। এমন সময় একটা গলা শোনা গেলো। 'তারে নারে বন্ধুরে, কুমড়া খাইলো ইন্দুরে'
বদরু মুখ কুঁচকে পেছনে তাকিয়ে দেখে একটা তরুণ বয়েসি ছেলে আপেল কামড়ে হেলান দিয়ে দিয়ে গাচ্ছে এক বিদঘুটে গান।
-এই শালা কে তুই!
-আমি নার্ভ মাস্টার, তুমি বোমা ক্লাস্টার। সালাম দাও নাইলে তোমার একুশটা বাজিয়ে ছাড়বো।
নিজের শরীরের প্রতিটা নার্ভে তীব্র ব্যাথা অনুভব করলো। এই ছেলের অ্যাবিলিটি বেশি। ব্যাথায় মুখ কুঁচকে গেছে বদরুর। ইকবালের নিথর শরীর ধরে ছাত ভে্ঙ্গে উড়ে চললো।
-বাঘা। মিশু ইয়ারপিসে বলে চলেছে... ওরা পালিয়েছে। ইকবাল একটা প্রোটোটাইপ স্যুট পড়েছে। এইটা সম্পর্কে কিছু জানো?
-না।
-ভালো। মেজর বিডি স্যুটের দফারফা করে দিয়েছে। জানো না ভালোই করেছো। জিঞ্জিরার মাল বানিয়েছে।
ছয়
ধাম করে চেম্বারে ঢুকে লাথি মারলো বদরু। চেয়ারটা উল্টে পড়ে গেলো। ইকবাল চুপ হয়ে আছে। রুমে ঢোকার পর শ্রান্ত চেহারায় সোফায় বসলো।
-আপনার প্রোটোটাইপের এই অবস্থা!
-আরে এটা প্রি স্টেজে আছে।
-তাই বলে মেজর বাংলাদেশ ছোবড়া বানাবে?
এক মিনিট চোখ বন্ধ করে গা এলিয়ে দিলো ইকবাল। ইন্টারকমে ফ্যাক্টরিতে কল দিলো।
-সেন্ডিন এর রিপ্রোডাকশান কতটুকু হলো?
-স্যার। আজই শেষ।
সন্ধ্যায় দুজনকে সামনে নিয়ে আসা হলো ইকবালের।
-খাও।
মুখে দেয়ার ত্রিশ মিনিট পর শুরু হলো রিঅ্যাকশন। একজন বিদঘুটে একটা আকার ধারণ করলো। সরীসৃপ আকারের। মুখ দিয়ে ফণা বের করে ধোয়া বের করে দিচ্ছে। পরের জন হুট করে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। এরপর হুট করে আগুনে শরীর হয়ে গেলো।
সেন্ডিন সুপারড্রাগসের একটা দিক হলো আপনি যেই ধরণের শক্তিকে পছন্দ করবেন তাই আপনাকে সেটেল করে নিবে।
-আরো আটজন বাকি। কুইক। ল্যাব হেডকে নির্দেশ দিলো ইকবাল।
সেইদিন রাতটা যে কালো রাত হয়ে দাড়াবে ঢাকার জন্য কে জানতো?
রাত এগারোটা। প্রচন্ড জ্যামের সময়টা পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। মিরপুর ১০ এ মাটি ফুঁড়ে বের হলো এক দানব। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামের দিকে যেতে শুরু করেছে। এমন সময় এজেন্ট জাহেদ হাতে থাকা গান তাক করে দানবটার দিকে বললো,
-এই ব্যাটা খোদার খাসি, যেখানে আছো সেখানেই থাকো। আর এক চুল নড়লে মাথার খুলি উড়িয়ে দেবো।
দানবটা হা হা করে হেসে উঠলো।
-আমাকে ভয় দেখাচ্ছো?
-ভয় তো করি না। ভয়ই বা দেখাবো কেনো?
মুখ থেকে হা করে আগুন বের করলো। পাশের দুটো ভবন ছাই হয়ে গেলো নিমেষে।
-হ্যালো বাপের ময়লা পয়দা। ঘাড় ফিরিয়ে দানব ঘুরে দেখলো এক লোক জাদুবলে চারপাশে পানির ফোয়ারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
হুস করে আগুন ছড়িয়ে দিতে গেলো। চট করে লোকটা পানির একটা বিশাল স্রোত ছাড়িয়ে দিলো দানবটার মুখ বরাবর। সাপের মতো স্রোতটা চেপে ধরেছে দানবটাকে।
-আর করবি? অ্যান্টি ডোট দাও। দানবটার গা বরাবর তাক করে ডোট গান থেকে ছুড়ে মারলো একজন।
-স্যরি আপনাকে চিনলাম না। জাহেদ বেকুব বনে গেছে।
-আমি! লোকটা স্মিত হেসে বলে উঠলো 'জলমানব'
সাত
খুব সুন্দর একটা সকাল। কাথাটা পায়ের উপর উঠে এসেছে। সুডৌল একটা পা। আড়মোড়া ভাঙার চেষ্টা করছে। আস্তে আস্তে কাথাটা সরে এলো। শরীরটা খাট থেকে নেমে আয়নায় দাঁড়ালো। অষ্টাদশী মেয়ে। নিজের চেহারা আয়নায় দেখে নিজেই পুলকিত। চট করে ফতুয়াটা গায়ে এলিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। উদ্দেশ্য বনানী। যমুনা ফিউচারের দিকের রাস্তায় এসে চট করে দেখলো বিশাল এক দানো এগিয়ে যাচ্ছে সুন্দর একটা এলাকা তছনছ করতে।
দরজা খুলে ডাইভ দিয়ে মাটি ছুয়েই শত সহস্র কণায় ভাগ হয়ে গেলো তার শরীর।
"আইত্তার..." বলে সিএনজিওয়ালা সোজা বৈদ্যুতিক পিলারের সাথে লাগিয়ে সজোরে ব্রেক করলো।
ছোট কণায় বিভক্ত হওয়া মানে দূর থেকে দেখলে, আসলে ওগুলো মৌমাছি। সবগুলো গিয়ে হামলে পড়লো দানোটার উপর। সামনের দিকে তাকিয়ে মেয়েটা দেখতে পেলো আরো একটা শরীর দানোটার কাছে চলে আসছে। দানোটা আসলে ভাবতে পারেনি যে এক সাথে চারদিক থেকে উঠে এসে আক্রমণ করে বসবে। ডক্টর ইকবালের বানানো এই দানো হুট করে নড়ে উঠায় মেয়েটা ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে নিজের অবয়বে ফিরে এলো। ওদিকে ১০ ফিটের এক বিশাল শরীর দানোটার সামনে আসতেই দানো একটা রদ্দা মারলো। নির্বিকার ভাবে শরীরের মালিকটা তাকালো দানোটার দিকে। বলা নেই কওয়া নেই দানোটা রদ্দা মারা হাত চেপে ধরে কাতরাতে শুরু করলো। পাশ থেকে আরো একজন চলে আসলো। ফুউহ করে মুখ থেকে সাবান পানি বের করে বাবল করে ছেড়ে দিলো দানোর শরীর বরাবর। মনে হলো শত সহস্র পটকা একসাথে ফেটে উঠেছে।
এরই মাঝখানে হঠাৎ কেউ একজন আসলো। আগের তিনজন হা করে তাকিয়ে দেখছে নতুন জনের গায়ে আট রকমের হাত। ধুম ধাম কিল মেরে হাত লম্বা করে দানোর দফা রফা করে ফেলেছে। কিন্তু না।
দু সেকেন্ড পরে দানো উঠে দাঁড়ালো। হুট করে দশ ফিটের বিশাল শরীরটা এসে তিনজনকে আড়াল দিয়ে বললো, "নড়বে না"
দানো একের পর এক আক্রমণ করছে। শরীরটা সহ্য করে যাচ্ছে। এরপর এক হুংকার দিয়ে কাভার ছেড়ে দিয়ে দানোর ঠিক মুখের উপর ১২০ টনি একটা ঘুষি দিতে মাথাটা ঘাড় থেকে আলাদা হয়ে ছিঁড়ে পড়লো।
কাপড়ে রক্ত মুছে তিনজনের দিকে তাকাতেই বাবলওয়ালা বললো, কে তুমি?
-আমি? সহন। যদিও আমার ঘুষি এ সহ্য করতে পারে নাই।
-আমি এসিড। জন্মের পর মুখ দিয়ে লোল ফেলতে পারিনি। তবে এসিড যুক্ত বাবল মুখ দিয়ে বেরুতে আমার নাম হয় এসিড বাবুল।
-আর তুমি?! সহন আটহাতের দিকে তাকালো।
-নাম নাই বলি। অষ্ঠহন্ত ডাকলে চলবে।
তিনজন প্রায় একই সময়ে আকাশের দিকে তাকালো। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দু দিয়ে নাম লেখা "মৌরানি"
-আমাদের সবারই জন্মগত শক্তি আছে। এর মানে আমরা মিউট্যান্টস!
-চলো একটা দল করি।
-বি' মিউট্যান্টস?!
-পাক্কা। মিউট্যান্টসদের একটা ইশকুল খোলা উচিত। মানুষকে বিপদে উদ্ধার করবে, মানবতায় এগিয়ে আসবে।
-এই যেমন আজ এগিয়ে আসলাম।
ওদিকে ডি টাওয়ারে ডক্টর তানভীর স্ক্রীণ থেকে মুখ ঘোরালেন বাঘা আর শরীফের দিকে।
"দেশের ইতিহাসে আমরা প্রথম একটা মিউট্যান্ট গ্রুপ পেলাম। কংগ্রেটস!"
আট
সাভারে ঘূটঘূটে অন্ধকারের ভেতর একটা পরিত্যাক্ত কারখানা। এর ঠিক নিচেই আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ চলছে সুপারপাওয়ার ড্রাগস 'সেন্ডিন' এর প্রোডাকশান। বার্মিজ এই ড্রাগস মূলত: মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসলেও এখন বানানো হচ্ছে দেশের ভেতর।
ফ্যাক্টরিটার চারপাশ কভার করে আছে আর্মড গার্ড। সেনাবাহিনীরর এক ট্রুপ ব্ল্যাক অপ্স এসেছে এজেন্টস অব ডি এর সাথে। উদ্দেশ্য প্রোডাকশানে যারা আছে তাদের মতো নিরীহদের বের করে আনা। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত ইকবালের অত্যাচারে, হুকুমে এদের বন্দি করে রাখা হয়েছে। হাতের উপর কড়া বেধে কাজ করানো হচ্ছে।
এজেন্ট রিশাদ একটা পয়েন্ট টু ব্ল্যাক কোর নিয়ে ঢুকেছে। ঠিক উল্টো পাশ থেকে ঢুকেছে জাহেদ। তার হাতে ব্ল্যাক হোল গান। ডি টাওয়ারে তার জন্য স্পেশালি বানানো হয়েছে। তবে রিশাদেরটার মতো এতো ভয়ংকর না। রিশাদ যেটা হাতে নিয়েছে ওটা অ্যাটমিক গান। সেকেন্ডের ১০০০০ হাজার ভগ্নাংশে একটা শরীর ছাই করে দিতে পারবে। আর জাহেদেরটা হচ্ছে বাতাসের মধ্যে কালা গর্ত করে অন্য ডাইমেনশনে পাঠায়ে দেওয়া।
ফিসফিস করে জাহেদ কি যেনো বললো ইয়ারপিসে। রিশাদ একটা প্রজেকশান ফ্লেয়ার ছুড়ে মারলো ফ্যাক্টরির মাঝ বরাবর। হুশ করে জ্বলে উঠে চারিদিক দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেলো।
সাথে সাথেই কানে তালা লাগার মতো বিকট শব্দে গরজে উঠলো যেনো কারো গলা। বার্মিজ ভাষা এটা শিউর,
-খন খইতাং মেংশু
-অ্যাইব্বেটা বার্মিজ শুয়ার চুপ থাক।
-অচিং থান চেংচুনারা
-চোপ। বলে রিশাদ ওর গালে যেই না থাপ্পড় মারলো, মেরেই হাত চেপে ধরলো। মনে হলো কারো গাল না ফুটন্ত গরম পানিতে হাত দিয়ে ফেলেছে সে।
অবস্থা বেগতিক দেখে পাশে থাকা ট্যাপের পানিতে হাত দিলো রিশাদ। এই বেটা নিজেই সেন্ডিন খেয়েছে। এর গায়ে সুপার পাওয়ার এসেছে। হঠাৎ চোখমুখ লাল হতে শুরু করলো বার্মিজটার।
-হেই হোয়াট'স ইয়র নেম?!
-অউং শান হ্লাইয়াং।
-ডু ইউ নো হোয়াট ইজ হেল?!
-ওয়াচ ইত।
বলেই মুখ থেকে আগুনে গোলা বের করা শুরু করলো বার্মিজটা। বুদ বুদ করে সেগুলা গায়ে আসার আগে জাহেদ ব্ল্যাক হোল গানের ট্রিগার টিপে দিলো। বুদবুদ সমেত অউং শান গায়েব হয়ে গেলো কালো গর্তে।
-ইকবাল আর বদরু গোটা শহরে যে কি করে ফেলেছে।
-সেন্ডিনের প্রভাব তো আছেই, তার উপর এই উটকো ঝামেলা!!!
খুব বড় বিপদে পড়ছে দেশ। খুউব....!
নয়
খুব দ্রুত এস্কেপ করে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে সব ড্রাগ শ্রমিককে বের করে আনা হলো। রিশাদ, জাহেদ ডি টাওয়ারে এসে রিপোর্ট করে বের হলো আসিফ, তাইহান, ফারদিনকে নিয়ে। শিমলা আর সাদিয়া মনিটরিং এ। শামীম শরীফকে নিয়ে ল্যাবে ঢুকলেন অ্যান্টি-ডোট নিয়ে। আগেই চলে এসেছে বিজ্ঞানী সিরাজুল, জলমানব আর রাতের প্রহরী। বায়োটেকের অসাধ্য সাধনে শত রকমের আয়োজন এই ল্যাবের ভেতর।
-যেটানিয়াম ১.০৩ গ্রাম।
-এট্টুক?! কাজ হবে?
-এটাতে ২৩৯ এলিমেন্টস দেবো, প্রেশার লুপ ৪০০।
-ড্যাম! এটা তো পুরো ডিফিউজ করে দেবে।
-আমাদের কাজই তো হবে আইকে আর্মিকে পুরাপুরি নিরস্ত্র করা।
ডাইনামিক প্রেশারে ইঞ্জিনের ভেতর অত্যুজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা গেলো। আস্তে করে পাওয়ার ডাউন করে দিলেন বিজ্ঞানী তানভীর। এবার স্পেশালাইজড গানের ভেতর ঢুকিয়ে দিলেন "যেটানিয়াম বুলেট"।
এজেন্টস অব ডি এর প্রতিটা সদস্যের হাতে তুলে দেয়া হলো গান আর ম্যাগাজিন। সাথে রাতের প্রহরী মিশুও উপহার পেলো। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্রেকিং নিউজ প্রচার হওয়া শুরু করলো।
"পুরো ঢাকা আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছে আইকে আর্মি। প্রস্তুতি..." সংবাদদাতা এই কথা বলার সাথে সাথে দেখা গেলো ক্যামেরায়, তার পেছনে এক বিদঘুটে ভয়ংকর চেহারার জন্তু উপস্থিত হয়েছে। মুখ থেকে বিশাল এক ফু দিয়ে আগুনে ছাই করে দিলো যে খবর পরিবেশন করেছিলো।
রাস্তার নেমে গেলো এজেন্টরা, জলমানব, নার্ভ মাস্টার এবং মিশু। যেটানিয়াম গান দিয়ে অ্যান্টিডোট দেয়া শুরু করলো। কিন্তু প্রবল তেজে এগিয়ে আসলো তারা।
-সিক্রেট কোড:৩৪৬৭। মিশু স্পিকিং। অল সিক্রেটস ইউনাইটেড মেম্বার প্লিজ রেসপন্স টু ইমিডিয়েট অ্যাকশন।
গোপন সংঘ ও যোগ দিয়েছে তাদের সাথে!
দশ.
অত্যাশ্চর্য আলো। পুরো ঢাকা শহরকে আলোকিত করে রেখেছে। রাতের অন্ধকারের তীব্রতা চিরে সেই আলো নগরের সমস্ত জনপ্রাণীকে করে তুলেছে আতংকিত। আলোগুলো জ্বলছে কিছু জান্তব শরীরের গায়ে।
"গ্রিটিংস! ঢাকাবাসী! আজকে থেকে দেশের কব্জা আমাদের হাতে। মানে ছায়া সংঘ এখন থেকে দেশকে শাসন। ইতিমধ্যে এক ট্রুপ আইকে আর্মি যাচ্ছে সরকারি ভবনগুলো দখল করতে। সুতরাং, নত হোন, বিনম্র হোন।"
শহরের সব বিলবোর্ড শো করছে ইকবালের ভিডিও। পুরো দেশকে সে কব্জা করবে এটা ডি টাওয়ার এর কেউই ভাবতে পারেনি। এজেন্টস খুব সতর্ক হয়ে আছে। সংসদ ভবনের সামনে মিশু, রিশাদ আর জাহেদ পেট্রোল করছে। হোল্ডে পয়েন্ট কোর, যেটানিয়াম গান। উত্তর দিকের রাস্তা থেকে আস্তে আস্তে দানব গুলো আসা শুরু করো। একই ধাচে মুখ থেকে আগুনের বুদবুদ ছেড়ে দিলো রিশাদ কিছু করার আগেই। সংসদ ভবনের এক পাশের কিছু গাছ পুড়ে ছাই হলো।
-সান অফ আ বিচ! জাহেদ মিশুর দিকে তাকাতেই মিশু গ্র্যাপনেল গানের হুক তাক করলো একটা বরাবর। হুশ করে ১ মিলিমিটারের পুরু নাইলনের দড়ি সহ রওনা হয়ে গেলো দানব বরাবর। একটার গায়ে বিধে যেতেই জাহেদ লাফ দিয়ে দড়ি ধরে যেটানিয়াম শুট করলো। পরপর তিনটার গায়ে লেগে ধমাধম পড়ে গেলো। আরো আসছে।
এই মুহুর্তে তীরন্দাজ পৌঁছে গেছে গণভবনে। সাথে লিটা। মিশুর পৌঁছে দেয়া যেটানিয়াম বুলেট আর তীর দিয়ে ঘায়েল করা শুরু করেছে। ওদিকে বঙ্গভবনের সামনে চলে এসেছে প্রায় ইকবাল আর বদরু।
"ক্ষমতা চেনো? ক্ষমতা প্রাপ্তিতে আছে আনন্দ! আমি চেয়েছিলাম দেশটাকে সুন্দর করতে। চেয়েছিলাম অনুমোদন, পেয়েছি অনুশাসন। আমার তাতে কি? যুগের পর যুগ এভাবে মেধাগুলো নষ্ট হবে, তোমাদের নবাবেরা তো পাবে না এদের। তাই, আমি ইকবাল আমার আইকে আর্মি বানিয়েছি দেশের মেধাবী ছেলেগুলোকে নিয়ে!"
-শুয়ারের পয়দা! তুই.... বলে বাঘা ওরফে শরীফ চুপ হয়ে গেলেন শামীমের বাধায়। ওদিকে জলদানব একদম কাছে চলে গিয়েছে বদরুর। বুম করে আগুনে গোলা ছুড়ে দিলো বদরু। জলদানব তার ইউজুয়াল পাওয়ার ছাড়লো। পানির তোড়ে আগুন নিভে গেলো। এবার চাবুকের মতো একটা পানির স্রোত তেড়ে গেলো। বদরু এবার পারলো না। উলটে পড়ে হাবুডুবু খেতে লাগলো। রাগ, ক্ষোভ ঢেলে দিলো যেনো জলমানব তার উপর।
-দেশের ছেলে পেলে গুলোকে শেষ করতে চেয়েছিস না?! সুপারপাওয়ার মানে দ্বায়িত্ব। বুঝিস? এই নে! মৃত্যু তোর যোগ্য।
চেপে ধরে পুরো শরীরটা পানিতে মুড়িয়ে দিলো। হাসফাস করছে বদরু। পারছে না। শ্বাসরোধ হয়ে যাচ্ছে।
-"বাই দ্য কন্সটিটিউশন অব দ্য কিংডম, অ্যাজ আ কিং অব বে অব বেংগাল আই সেন্টেন্স ইউ ডেথ!"
-জলমানব কি করছেন?! শামীম ধাক্কা দিচ্ছে জলমানবকে।
ওদিকে বিশাল আরমার্ড স্যুট পড়ে ইকবাল যখন অ্যাপ্রোচ করলো ঠিক তখনই গ্র্যাভিটি মাস্টার ইব্রাহিম হাজির হয়ে গেলেন। গোপন সংঘের অন্যতম প্রবীণ সদস্য কুকড়ে দিলেন ইকবালের স্যুটটা। আর নার্ভ মাস্টার ছিলো তৈরি। তুলে আছাড়। নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো ইকবাল।
-জঞ্জাল! থু মেরে শরীর দুটো থেকে মুখ ঘোরালো জলমানব।
নরকের আগুন ইকবাল আর বদরু জ্বালিয়ে দিয়ে গেলেও সেই আগুন নেভেনি। বাংলাদেশ উঠে আসবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে। দেশের জন্য লড়াই করে ক্লান্ত এজেন্টসরা, হিরোরা। আসলেই কি যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে? শুরু হবে সুখের বসন্ত?
পোস্ট ক্রেডিট:
ধুম করে একটা শীপ উড়ে এসেছে। যদিও বেতবুনিয়ার রাডারে ধরা পড়ে উল্কা মতন কিছু। ইকবাল বদরুর নিথর দেহের সামনের পঁচিশ গজের ধুলা উড়িয়ে থামলো।
"অপদার্থ! ক্ষমতা দেখাতে হয় প্রযুক্তি দিয়ে নয় শুধু, বুদ্ধি ও শক্তি দিয়ে। ক্ষমতার মোহে নেমে গেছো নীচে। এবার এসেছি আমি। পুনরুজ্জীবিত হও। আমার ছায়াতলে এসো।"
চোখ পিটপিট করলো ইকবাল। নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে তার শরীরে।
-কে আপনি?
-আমি শোষণ করবো এই মহাবিশ্ব। আমি মহানায়ক। আমি দাফকান!
ধানমন্ডির একটি লাউঞ্জ। কিছু ছেলে আড্ডা দিচ্ছিলো এক কোণে বসে। লাউঞ্জের ভেতরে একটি বছর বাইশের তরুণ ঢুকলো। ছোট প্লাস্টিক প্যাকেট রাবার গ্রিপে লক করা। আরেক হাতে পৌঁছে দিলো আড্ডারত ছেলেদের একজনের কাছে। সাথে সাথে পাশের সোফা থেকে তিন চারজন লোক উঠে দাঁড়ালো।
"ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট"।
যে প্যাকেট হাতে নিয়েছিলো সে ড্যামকেয়ার ভাব দেখিয়ে মাঝের আঙুল তাক করে লোকগুলোকে বললো "ফাক ইউ"।
আরেক হাতে স্মার্ট ফোনে ডায়াল হয়ে গেলো,
"রণিন তুই কই?"
রণিন বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর স্পাই ইন্টেলিজেন্স ডি জি এফ আইয়ের স্পেশাল ফোর্স এজেন্টস অব ডি এর এজেন্ট এবং বাংলাদেশেরও সবচেয়ে কমবয়েসি এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ হয়েছিলো।
-বল
-পিবি আই কট।
ত্রিশ সেকেন্ডের ভেতরে লাউঞ্জে চলে আসলো রণিন। মিরপুরে ছিলো। ধানমন্ডি আসতে এতো কম সময় নেয়ায় বেশ অবাকই হলো ছেলেটি। আসলে এটা হয়েছে স্রেফ এক আশ্চর্য জুতোজোড়ার কারণে। এই জুতায় ভর করে সে উড়ে এসেছে। ওদিকে সাদা পোশাক ধারীরা হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ফেলেছে সবকটাকে। রণিন বেশ ঠান্ডা মেজাজের সুরেই চাবির রিং ঘোরাতে পালের গোদার সামনে এসে বললো,
"হ্যালো অফিসারস"
লোকটা স্বাস্থ্যবান। আস্তে করে শরীর ঘুরিয়ে রণিনকে মেপে নিলো।
"কে হে ভাই তুমি?"
সাথে সাথে পরিচয়পত্র বের করে দিতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো সাদা পোশাকধারীদের।
-ফ্রি দেম আপ
-না। ওরা ড্রাগস সাপ্লাইয়ে ছিলো।
-নো। ওদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিলো। ড্রাগসটা ডি টাওয়ারে নিয়ে যেতে হবে। তাই ট্রান্সপোর্ট করা হচ্ছিলো।
-বিশ্বাস করি না। আর আপনি কেনো এখানে এজেন্ট?
বাকিরাও অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে রণিনের দিকে।
রণিন ঠান্ডা মেরে অফিসারের দিকে তাকিয়ে আছে। বললো, "ভালোয় ভালোয় প্যাকেট হস্তান্তর করুন।"
অফিসার এবার ক্রুর হাসি দিয়ে রণিনের হাত খপ করে ধরলো। হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ধাক্কা দিলো দরজার সামনে।
"চলো চান্দু শ্বশুরবাড়ি"
দুই.
সামরিক এলাকা, ঢাকা। যাকে এক অর্থে ঢাকা সেনানিবাস বলা হয়। সেখানে ডি টাওয়ারে দেশের একমাত্র সামরিক ইন্টেলিজেন্স ডিজিএফআইয়ের স্পেশাল ফোর্স এজেন্টস অব ডি এর সদর দপ্তর।
ডিরেক্টর মেজর তালহার সাথে আলোচনা করছিলো এজেন্ট শরীফ। নতুন রিক্রুটমেন্ট দরকার।
-স্যার, আস্তে আস্তে নিয়েন। শরীফ বললেন।
-হুম, পরীক্ষা দিয়েই না তবে আসবে তারা। আচ্ছা রণিন কোথায়? ভুরু কুঁচকে মোবাইলে ডায়াল করলেন।
ওপাশ থেকে আসলো আওয়াজ-
-হিলো কে
মোবাইল কান থেকে সরিয়ে শরীফের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন মেজর। রণিনের গলার জায়গায় এক গ্রাম্য কন্ঠ শোনা যাচ্ছে।
-রণিন কোথায়?
-কে আসামি? ওকেতো জেলে ভরাইয়া দিছে।
-আপনি কে?
-আমি হারুন মিয়া। ধানমন্ডি থানার কন্সটেবল।
মুহুর্তের ভেতর চাউর হয়ে গেলো। ডি জি এফ আই থেকে প্রশাসনে কল গেলো যে এজেন্ট রণিন গ্রেফতার হয়েছেন। প্রশাসন দিলো চাপ ধানমন্ডিতে। এজেন্ট রিশাদ, জাহেদ ও আসিফ থানায় পৌঁছে গেলো। গিয়ে দেখলো এক লোক টেবিলে পা তুলে বসেছে।
-এই যে মিস্টার। তোমার ব্যাজ দেখাও।
লোকটা এক চোখ খুলে বললো,
-হু আর ইউ?!
ব্যাজ দেখেও লোকটা পাত্তা দিলো না।
-আপনারা এজেন্ট হোন আর যাই হোন রণিন ড্রাগ রিলেটেড ব্যাপারে আটকে গেছে। স্যারি।
এমন বেয়াদবি দেখে জাহেদের মাথা গেলো গরম হয়ে। -শুয়োরের বাচ্চা তুই কার সাথে ভেজাল করতেছস জানস?
-দেখেন যেই হোন এখানে কারো হ্যাডম দেখে আমরা আতিথেয়তা করি না। অফিসার বললো।
-তোরে... লোকটার কলার চাপ দিয়ে ধরে ফেললো আসিফ।
-হেহে। লোকটা বিশ্রি একটা হাসি দিলো। প্রশাসন থেকে অর্ডার আসলে তারপরেই ছাড়বো।
থানা থেকে তিনজন বেরিয়ে এলো চোখ লাল করে। রণিন জেলে এটা যেনো ভাবতেই পারছেনা জাহেদ। ওদিকে থানার লোকটা, ওসি শমসের একটা নাম্বার ডায়াল করলো।
-ডক্টর।
-হ্যা শমসের বলো।
-রণিন কট।
-গুড জব ওসি।
ফোনের ওপ্রান্তের মানুষটা ডক্টর ইকবাল। এজেন্টস অব ডি এর চিরশত্রু।
তিন.
ডক্টর ইকবাল বদরুকে সারিয়ে তুলেছে আজ তিন সপ্তাহ। যদিও গোপন সংঘ বদরুর সমস্ত ড্রাগ ফ্যাক্টরি ধ্বংস করেছে, পকেটে থাকা তিনটা স্যাম্পলই যথেষ্ট। আই-কে আর্মিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনাও মাথায় আছে।
-ভাই। আপনি আমার ভাই।
-হাহাহা। এই দুনিয়ায় কেউ কারো আপন নয় রে।যতক্ষণ শ্বাস ততোক্ষণ আশ।
ল্যাবে ট্যাবলেট রিস্যাম্পলিং এর কাজ হয়েছে গত দু সপ্তাহে। একে উন্নত করে নিউ জেনারেশন সুপারপাওয়ার ড্রাগ করার একটা উপায় এসেছে। সেদিকটা পরে চিন্তা করবে, আসল চিন্তা আপাতত এজেন্টস অব ডি। রণিনকে মনোযোগের কেন্দ্রে রেখে ফাঁকতালে প্রচুর সেন্ডিন বানাতে হবে। বিশাল আইকে-আর্মির জন্য।
ডি টাওয়ার। ডি জি এফ আই এর স্পেশাল ফোর্স এজেন্টস অব ডি এর সদর দপ্তর। ডক্টর তানভীর সকাল থেকে বোঝাচ্ছেন ড্রাগের ব্যাপারটা। ছড়িয়ে গেছে গোটা শহরে।
-আচ্ছা। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
ডি এর ভ্যান টা বিশাল। একটা আদর্শ ক্যারাভ্যানে যা থাকা দরকার সবই আছে। রিশাদ, জাহেদ গুম মেরে বসে আছে। শরীফ ঢুকতেই চোখ ফেরালো দুজন।
-পারোনি ছাড়াতে?
-না।
-ছাড়বে। ছাড়তে হবে। আসিফ গাড়ি ছাড়ো।
স্টার্ট দিয়ে গাড়ি ধানমন্ডির কাছাকাছি গেলো। এমন সময় সাদিয়া চেঁচিয়ে উঠলো।
-আরে থামো থামো।
-কি হলো?
-আরে ভিজুয়ালাইজ করলাম মাত্র। তোমাদের সাথে যে ইন্সপেক্টরের একচোট হয়েছে সে ইকবালের লোক।
আসিফ হুট করে দাঁড়িয়ে পড়লো। তার এক্সট্রা সেন্সিটিভ কান দিয়ে শুনতে পেলো যেনো বহুদুরের আওয়াজ। "শেষ করো। তছনছ করে দাও"।
চার.
সেদিনের মতো ইনভেস্টিগেশন বন্ধ করে ফিরে আসতে হলো। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সামাল দিতে নতুন সুপার পাওয়ার সমৃদ্ধ লোক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এজেন্টস অব ডি সেই সুবাদে নতুন তিনজনকে নিয়েছে। এরা থার্ড কোর এজেন্ট বা অপারেটিভ। মানে কম্পিউটার মনিটরিং বা ফিল্ড দুটোতেই সমান পারদর্শী।
এদের একজনের শক্তি হচ্ছে ফায়ার বল তৈরি করে ছুড়ে মারা। এর নাম ফারদিন। দ্বিতীয় জন মনন শক্তি দিয়ে মাইনাস ডিগ্রী সেলসিয়াসে বরফ জমিয়ে ফেলতে পারে। এর নাম শিমলা। আরেকজন ওয়েভ পাঞ্চার। মনন শক্তি হোক কিংবা মুখের চিৎকার তরঙ্গ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারে। এর নাম তাইহান।
-ওকে স্প্লিট আউট। তিনজন করে দুটো টিম। আরেকটা দুজন করে। আমি, শামীম, তাইহান। দুই, শিমলা, জাহেদ, আসিফ। তিনে, রিশাদ আর ফারদিন। আর ম্যাপ সাপোর্ট, ভ্যান অপারেটিং এ সাদিয়া।
ধানমন্ডির ওদিকটায় ঢুকতেই শিমলা খচমচ করে উঠলো। হুট করে গা শির শির করে উঠলো তার। লাফ দিয়ে সামনের একটা রিকশার উপর দিয়ে পাশের গলিতে হারিয়ে গেলো। জাহেদের দিকে বেকুবের মতো তাকিয়ে আসিফ বললো, 'কি হলো'?
গলির ঠিক উপরেই ধোঁয়া দেখা গেলো। পড়িমড়ি করে ছুট দিয়ে দেখলো আসিফ আর জাহেদ, পিঠ পিছে দিয়ে কোমর ধরে দাঁড়িয়ে আছে শিমলা। আর সামনেই বরফ জমে কাঠ একজন।
-কি করে ফেলেছো? জাহেদ বলে উঠলো।
-বদমাশ সেন্ডিন অ্যাডিকটেড। আমার দিকে আগুন ছুড়ে মারতে চেয়েছিলো।
"অ্যাটেনশন অল ইউনিট, গেদার ইউরসেল্ফ ইন ফ্রন্ট অব ধানমন্ডি ৭"
ঘুরে দৌড় লাগালো তিনজনে। ইয়ারপিসে যে গলা শুনেছে সেটা সাদিয়ার কাঁপা কাঁপা গলা। এক ছুটে এসে দেখে ক্যারাভ্যানের সামনে পেছনে মাটি দেবে বসে গেছে। দুই হাত দিয়ে এরা তিনজন ঠেললেও লাভ নেই। ততোক্ষণে তাইহান সহ চীফ, ডেপুটি চিফ চলে এসেছে। তাইহান বলে উঠলো,
'মাটি উঠিয়ে আনি, কেমন হবে?'
-উঠাও, ভ্যান আগাবে না।
দুই হাতের তর্জনী কপালের পাশে ঠেকিয়ে দেবে যাওয়া মাটি সমান করে দিলো তাইহান। আসিফ উঠে সাদিয়াকে চেপে ধরলো। "ইকবাল" ট্রমাটাইজ হয়ে গেছে সাদিয়া। ঢোক গিলে শব্দটা উচ্চারণ করতে যেনো বহুবছর লেগে গেলো।
পাচ.
রাত দশটা। ঘুটঘুটে অন্ধকারে একটা আউটফিটের দশাসই শরীর খুব ভারী বুট নিয়ে ঢুকেছে নিঃশব্দে। জায়গাটা একটা বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড। স্যাঁতসেঁতে খুব।
-জাইমা। বলো কিসের কথা যেনো বলছিলে।
-বলছিলাম... মি মিশু তোমার ডানপাশে। অন্ধকারে কি একটা যেন
-কই?!
-হেলো ডিটেকটিভ।
ঝটিতি ফিরে তাকিয়ে বেকুব হয়ে গেলো মিশু। বাংলার সেরা আর্ম প্যাকড গোয়েন্দা হকচকিয়ে গেছে পাশের লোকটাকে দেখে। বদরু। বদরু ইজ অ্যালাইভ। চট করে সরে একটা রদ্দা মারলো। বদরুর হাতে সেটা বাম্প করলো।
-দা ফাক!
-বদরু লিভ হিম। একটা চেনা পরিচিত কন্ঠ। ইকবালের।
-শুয়োরের বাচ্চা! জানোয়ারটাকে বাঁচিয়ে তুলেছিস।
ইকবাল যেনো বিশাল একটা শরীর নিয়ে এসেছে। ফুল্প্রুভ রোবোটিক আরমার্ড। রোবোটিক অ্যাসিস্ট্যান্স ইনটেলিজেন্স।
-আমরাও কম না। ভারী একটা কন্ঠ।
-মেজর স্ট্রাইক। মিশুর মুখে বাকা হাসি। মেজর বাংলাদেশ আলোতে এসেছে।
বিশাল পা ফেলে যেই না ডক্টর সামনে এলো, পঞ্চাশ কেজি ওজনের ঘুষি বাগিয়ে দিলো। ঠাং করে উঠলো ইকবালের বডি স্যুট। তাল সামলাতে না পেরে উল্টে পড়ে গেলো।
ওদিকে বদরু প্রায় চড়াও হয়েছে মিশুর উপরে। মনন শক্তি দিয়ে প্রায় বেধে ফেলেছে। এমন সময় একটা গলা শোনা গেলো। 'তারে নারে বন্ধুরে, কুমড়া খাইলো ইন্দুরে'
বদরু মুখ কুঁচকে পেছনে তাকিয়ে দেখে একটা তরুণ বয়েসি ছেলে আপেল কামড়ে হেলান দিয়ে দিয়ে গাচ্ছে এক বিদঘুটে গান।
-এই শালা কে তুই!
-আমি নার্ভ মাস্টার, তুমি বোমা ক্লাস্টার। সালাম দাও নাইলে তোমার একুশটা বাজিয়ে ছাড়বো।
নিজের শরীরের প্রতিটা নার্ভে তীব্র ব্যাথা অনুভব করলো। এই ছেলের অ্যাবিলিটি বেশি। ব্যাথায় মুখ কুঁচকে গেছে বদরুর। ইকবালের নিথর শরীর ধরে ছাত ভে্ঙ্গে উড়ে চললো।
-বাঘা। মিশু ইয়ারপিসে বলে চলেছে... ওরা পালিয়েছে। ইকবাল একটা প্রোটোটাইপ স্যুট পড়েছে। এইটা সম্পর্কে কিছু জানো?
-না।
-ভালো। মেজর বিডি স্যুটের দফারফা করে দিয়েছে। জানো না ভালোই করেছো। জিঞ্জিরার মাল বানিয়েছে।
ছয়
ধাম করে চেম্বারে ঢুকে লাথি মারলো বদরু। চেয়ারটা উল্টে পড়ে গেলো। ইকবাল চুপ হয়ে আছে। রুমে ঢোকার পর শ্রান্ত চেহারায় সোফায় বসলো।
-আপনার প্রোটোটাইপের এই অবস্থা!
-আরে এটা প্রি স্টেজে আছে।
-তাই বলে মেজর বাংলাদেশ ছোবড়া বানাবে?
এক মিনিট চোখ বন্ধ করে গা এলিয়ে দিলো ইকবাল। ইন্টারকমে ফ্যাক্টরিতে কল দিলো।
-সেন্ডিন এর রিপ্রোডাকশান কতটুকু হলো?
-স্যার। আজই শেষ।
সন্ধ্যায় দুজনকে সামনে নিয়ে আসা হলো ইকবালের।
-খাও।
মুখে দেয়ার ত্রিশ মিনিট পর শুরু হলো রিঅ্যাকশন। একজন বিদঘুটে একটা আকার ধারণ করলো। সরীসৃপ আকারের। মুখ দিয়ে ফণা বের করে ধোয়া বের করে দিচ্ছে। পরের জন হুট করে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। এরপর হুট করে আগুনে শরীর হয়ে গেলো।
সেন্ডিন সুপারড্রাগসের একটা দিক হলো আপনি যেই ধরণের শক্তিকে পছন্দ করবেন তাই আপনাকে সেটেল করে নিবে।
-আরো আটজন বাকি। কুইক। ল্যাব হেডকে নির্দেশ দিলো ইকবাল।
সেইদিন রাতটা যে কালো রাত হয়ে দাড়াবে ঢাকার জন্য কে জানতো?
রাত এগারোটা। প্রচন্ড জ্যামের সময়টা পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। মিরপুর ১০ এ মাটি ফুঁড়ে বের হলো এক দানব। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামের দিকে যেতে শুরু করেছে। এমন সময় এজেন্ট জাহেদ হাতে থাকা গান তাক করে দানবটার দিকে বললো,
-এই ব্যাটা খোদার খাসি, যেখানে আছো সেখানেই থাকো। আর এক চুল নড়লে মাথার খুলি উড়িয়ে দেবো।
দানবটা হা হা করে হেসে উঠলো।
-আমাকে ভয় দেখাচ্ছো?
-ভয় তো করি না। ভয়ই বা দেখাবো কেনো?
মুখ থেকে হা করে আগুন বের করলো। পাশের দুটো ভবন ছাই হয়ে গেলো নিমেষে।
-হ্যালো বাপের ময়লা পয়দা। ঘাড় ফিরিয়ে দানব ঘুরে দেখলো এক লোক জাদুবলে চারপাশে পানির ফোয়ারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
হুস করে আগুন ছড়িয়ে দিতে গেলো। চট করে লোকটা পানির একটা বিশাল স্রোত ছাড়িয়ে দিলো দানবটার মুখ বরাবর। সাপের মতো স্রোতটা চেপে ধরেছে দানবটাকে।
-আর করবি? অ্যান্টি ডোট দাও। দানবটার গা বরাবর তাক করে ডোট গান থেকে ছুড়ে মারলো একজন।
-স্যরি আপনাকে চিনলাম না। জাহেদ বেকুব বনে গেছে।
-আমি! লোকটা স্মিত হেসে বলে উঠলো 'জলমানব'
সাত
খুব সুন্দর একটা সকাল। কাথাটা পায়ের উপর উঠে এসেছে। সুডৌল একটা পা। আড়মোড়া ভাঙার চেষ্টা করছে। আস্তে আস্তে কাথাটা সরে এলো। শরীরটা খাট থেকে নেমে আয়নায় দাঁড়ালো। অষ্টাদশী মেয়ে। নিজের চেহারা আয়নায় দেখে নিজেই পুলকিত। চট করে ফতুয়াটা গায়ে এলিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। উদ্দেশ্য বনানী। যমুনা ফিউচারের দিকের রাস্তায় এসে চট করে দেখলো বিশাল এক দানো এগিয়ে যাচ্ছে সুন্দর একটা এলাকা তছনছ করতে।
দরজা খুলে ডাইভ দিয়ে মাটি ছুয়েই শত সহস্র কণায় ভাগ হয়ে গেলো তার শরীর।
"আইত্তার..." বলে সিএনজিওয়ালা সোজা বৈদ্যুতিক পিলারের সাথে লাগিয়ে সজোরে ব্রেক করলো।
ছোট কণায় বিভক্ত হওয়া মানে দূর থেকে দেখলে, আসলে ওগুলো মৌমাছি। সবগুলো গিয়ে হামলে পড়লো দানোটার উপর। সামনের দিকে তাকিয়ে মেয়েটা দেখতে পেলো আরো একটা শরীর দানোটার কাছে চলে আসছে। দানোটা আসলে ভাবতে পারেনি যে এক সাথে চারদিক থেকে উঠে এসে আক্রমণ করে বসবে। ডক্টর ইকবালের বানানো এই দানো হুট করে নড়ে উঠায় মেয়েটা ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে নিজের অবয়বে ফিরে এলো। ওদিকে ১০ ফিটের এক বিশাল শরীর দানোটার সামনে আসতেই দানো একটা রদ্দা মারলো। নির্বিকার ভাবে শরীরের মালিকটা তাকালো দানোটার দিকে। বলা নেই কওয়া নেই দানোটা রদ্দা মারা হাত চেপে ধরে কাতরাতে শুরু করলো। পাশ থেকে আরো একজন চলে আসলো। ফুউহ করে মুখ থেকে সাবান পানি বের করে বাবল করে ছেড়ে দিলো দানোর শরীর বরাবর। মনে হলো শত সহস্র পটকা একসাথে ফেটে উঠেছে।
এরই মাঝখানে হঠাৎ কেউ একজন আসলো। আগের তিনজন হা করে তাকিয়ে দেখছে নতুন জনের গায়ে আট রকমের হাত। ধুম ধাম কিল মেরে হাত লম্বা করে দানোর দফা রফা করে ফেলেছে। কিন্তু না।
দু সেকেন্ড পরে দানো উঠে দাঁড়ালো। হুট করে দশ ফিটের বিশাল শরীরটা এসে তিনজনকে আড়াল দিয়ে বললো, "নড়বে না"
দানো একের পর এক আক্রমণ করছে। শরীরটা সহ্য করে যাচ্ছে। এরপর এক হুংকার দিয়ে কাভার ছেড়ে দিয়ে দানোর ঠিক মুখের উপর ১২০ টনি একটা ঘুষি দিতে মাথাটা ঘাড় থেকে আলাদা হয়ে ছিঁড়ে পড়লো।
কাপড়ে রক্ত মুছে তিনজনের দিকে তাকাতেই বাবলওয়ালা বললো, কে তুমি?
-আমি? সহন। যদিও আমার ঘুষি এ সহ্য করতে পারে নাই।
-আমি এসিড। জন্মের পর মুখ দিয়ে লোল ফেলতে পারিনি। তবে এসিড যুক্ত বাবল মুখ দিয়ে বেরুতে আমার নাম হয় এসিড বাবুল।
-আর তুমি?! সহন আটহাতের দিকে তাকালো।
-নাম নাই বলি। অষ্ঠহন্ত ডাকলে চলবে।
তিনজন প্রায় একই সময়ে আকাশের দিকে তাকালো। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দু দিয়ে নাম লেখা "মৌরানি"
-আমাদের সবারই জন্মগত শক্তি আছে। এর মানে আমরা মিউট্যান্টস!
-চলো একটা দল করি।
-বি' মিউট্যান্টস?!
-পাক্কা। মিউট্যান্টসদের একটা ইশকুল খোলা উচিত। মানুষকে বিপদে উদ্ধার করবে, মানবতায় এগিয়ে আসবে।
-এই যেমন আজ এগিয়ে আসলাম।
ওদিকে ডি টাওয়ারে ডক্টর তানভীর স্ক্রীণ থেকে মুখ ঘোরালেন বাঘা আর শরীফের দিকে।
"দেশের ইতিহাসে আমরা প্রথম একটা মিউট্যান্ট গ্রুপ পেলাম। কংগ্রেটস!"
আট
সাভারে ঘূটঘূটে অন্ধকারের ভেতর একটা পরিত্যাক্ত কারখানা। এর ঠিক নিচেই আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ চলছে সুপারপাওয়ার ড্রাগস 'সেন্ডিন' এর প্রোডাকশান। বার্মিজ এই ড্রাগস মূলত: মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসলেও এখন বানানো হচ্ছে দেশের ভেতর।
ফ্যাক্টরিটার চারপাশ কভার করে আছে আর্মড গার্ড। সেনাবাহিনীরর এক ট্রুপ ব্ল্যাক অপ্স এসেছে এজেন্টস অব ডি এর সাথে। উদ্দেশ্য প্রোডাকশানে যারা আছে তাদের মতো নিরীহদের বের করে আনা। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত ইকবালের অত্যাচারে, হুকুমে এদের বন্দি করে রাখা হয়েছে। হাতের উপর কড়া বেধে কাজ করানো হচ্ছে।
এজেন্ট রিশাদ একটা পয়েন্ট টু ব্ল্যাক কোর নিয়ে ঢুকেছে। ঠিক উল্টো পাশ থেকে ঢুকেছে জাহেদ। তার হাতে ব্ল্যাক হোল গান। ডি টাওয়ারে তার জন্য স্পেশালি বানানো হয়েছে। তবে রিশাদেরটার মতো এতো ভয়ংকর না। রিশাদ যেটা হাতে নিয়েছে ওটা অ্যাটমিক গান। সেকেন্ডের ১০০০০ হাজার ভগ্নাংশে একটা শরীর ছাই করে দিতে পারবে। আর জাহেদেরটা হচ্ছে বাতাসের মধ্যে কালা গর্ত করে অন্য ডাইমেনশনে পাঠায়ে দেওয়া।
ফিসফিস করে জাহেদ কি যেনো বললো ইয়ারপিসে। রিশাদ একটা প্রজেকশান ফ্লেয়ার ছুড়ে মারলো ফ্যাক্টরির মাঝ বরাবর। হুশ করে জ্বলে উঠে চারিদিক দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেলো।
সাথে সাথেই কানে তালা লাগার মতো বিকট শব্দে গরজে উঠলো যেনো কারো গলা। বার্মিজ ভাষা এটা শিউর,
-খন খইতাং মেংশু
-অ্যাইব্বেটা বার্মিজ শুয়ার চুপ থাক।
-অচিং থান চেংচুনারা
-চোপ। বলে রিশাদ ওর গালে যেই না থাপ্পড় মারলো, মেরেই হাত চেপে ধরলো। মনে হলো কারো গাল না ফুটন্ত গরম পানিতে হাত দিয়ে ফেলেছে সে।
অবস্থা বেগতিক দেখে পাশে থাকা ট্যাপের পানিতে হাত দিলো রিশাদ। এই বেটা নিজেই সেন্ডিন খেয়েছে। এর গায়ে সুপার পাওয়ার এসেছে। হঠাৎ চোখমুখ লাল হতে শুরু করলো বার্মিজটার।
-হেই হোয়াট'স ইয়র নেম?!
-অউং শান হ্লাইয়াং।
-ডু ইউ নো হোয়াট ইজ হেল?!
-ওয়াচ ইত।
বলেই মুখ থেকে আগুনে গোলা বের করা শুরু করলো বার্মিজটা। বুদ বুদ করে সেগুলা গায়ে আসার আগে জাহেদ ব্ল্যাক হোল গানের ট্রিগার টিপে দিলো। বুদবুদ সমেত অউং শান গায়েব হয়ে গেলো কালো গর্তে।
-ইকবাল আর বদরু গোটা শহরে যে কি করে ফেলেছে।
-সেন্ডিনের প্রভাব তো আছেই, তার উপর এই উটকো ঝামেলা!!!
খুব বড় বিপদে পড়ছে দেশ। খুউব....!
নয়
খুব দ্রুত এস্কেপ করে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে সব ড্রাগ শ্রমিককে বের করে আনা হলো। রিশাদ, জাহেদ ডি টাওয়ারে এসে রিপোর্ট করে বের হলো আসিফ, তাইহান, ফারদিনকে নিয়ে। শিমলা আর সাদিয়া মনিটরিং এ। শামীম শরীফকে নিয়ে ল্যাবে ঢুকলেন অ্যান্টি-ডোট নিয়ে। আগেই চলে এসেছে বিজ্ঞানী সিরাজুল, জলমানব আর রাতের প্রহরী। বায়োটেকের অসাধ্য সাধনে শত রকমের আয়োজন এই ল্যাবের ভেতর।
-যেটানিয়াম ১.০৩ গ্রাম।
-এট্টুক?! কাজ হবে?
-এটাতে ২৩৯ এলিমেন্টস দেবো, প্রেশার লুপ ৪০০।
-ড্যাম! এটা তো পুরো ডিফিউজ করে দেবে।
-আমাদের কাজই তো হবে আইকে আর্মিকে পুরাপুরি নিরস্ত্র করা।
ডাইনামিক প্রেশারে ইঞ্জিনের ভেতর অত্যুজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা গেলো। আস্তে করে পাওয়ার ডাউন করে দিলেন বিজ্ঞানী তানভীর। এবার স্পেশালাইজড গানের ভেতর ঢুকিয়ে দিলেন "যেটানিয়াম বুলেট"।
এজেন্টস অব ডি এর প্রতিটা সদস্যের হাতে তুলে দেয়া হলো গান আর ম্যাগাজিন। সাথে রাতের প্রহরী মিশুও উপহার পেলো। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্রেকিং নিউজ প্রচার হওয়া শুরু করলো।
"পুরো ঢাকা আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছে আইকে আর্মি। প্রস্তুতি..." সংবাদদাতা এই কথা বলার সাথে সাথে দেখা গেলো ক্যামেরায়, তার পেছনে এক বিদঘুটে ভয়ংকর চেহারার জন্তু উপস্থিত হয়েছে। মুখ থেকে বিশাল এক ফু দিয়ে আগুনে ছাই করে দিলো যে খবর পরিবেশন করেছিলো।
রাস্তার নেমে গেলো এজেন্টরা, জলমানব, নার্ভ মাস্টার এবং মিশু। যেটানিয়াম গান দিয়ে অ্যান্টিডোট দেয়া শুরু করলো। কিন্তু প্রবল তেজে এগিয়ে আসলো তারা।
-সিক্রেট কোড:৩৪৬৭। মিশু স্পিকিং। অল সিক্রেটস ইউনাইটেড মেম্বার প্লিজ রেসপন্স টু ইমিডিয়েট অ্যাকশন।
গোপন সংঘ ও যোগ দিয়েছে তাদের সাথে!
দশ.
অত্যাশ্চর্য আলো। পুরো ঢাকা শহরকে আলোকিত করে রেখেছে। রাতের অন্ধকারের তীব্রতা চিরে সেই আলো নগরের সমস্ত জনপ্রাণীকে করে তুলেছে আতংকিত। আলোগুলো জ্বলছে কিছু জান্তব শরীরের গায়ে।
"গ্রিটিংস! ঢাকাবাসী! আজকে থেকে দেশের কব্জা আমাদের হাতে। মানে ছায়া সংঘ এখন থেকে দেশকে শাসন। ইতিমধ্যে এক ট্রুপ আইকে আর্মি যাচ্ছে সরকারি ভবনগুলো দখল করতে। সুতরাং, নত হোন, বিনম্র হোন।"
শহরের সব বিলবোর্ড শো করছে ইকবালের ভিডিও। পুরো দেশকে সে কব্জা করবে এটা ডি টাওয়ার এর কেউই ভাবতে পারেনি। এজেন্টস খুব সতর্ক হয়ে আছে। সংসদ ভবনের সামনে মিশু, রিশাদ আর জাহেদ পেট্রোল করছে। হোল্ডে পয়েন্ট কোর, যেটানিয়াম গান। উত্তর দিকের রাস্তা থেকে আস্তে আস্তে দানব গুলো আসা শুরু করো। একই ধাচে মুখ থেকে আগুনের বুদবুদ ছেড়ে দিলো রিশাদ কিছু করার আগেই। সংসদ ভবনের এক পাশের কিছু গাছ পুড়ে ছাই হলো।
-সান অফ আ বিচ! জাহেদ মিশুর দিকে তাকাতেই মিশু গ্র্যাপনেল গানের হুক তাক করলো একটা বরাবর। হুশ করে ১ মিলিমিটারের পুরু নাইলনের দড়ি সহ রওনা হয়ে গেলো দানব বরাবর। একটার গায়ে বিধে যেতেই জাহেদ লাফ দিয়ে দড়ি ধরে যেটানিয়াম শুট করলো। পরপর তিনটার গায়ে লেগে ধমাধম পড়ে গেলো। আরো আসছে।
এই মুহুর্তে তীরন্দাজ পৌঁছে গেছে গণভবনে। সাথে লিটা। মিশুর পৌঁছে দেয়া যেটানিয়াম বুলেট আর তীর দিয়ে ঘায়েল করা শুরু করেছে। ওদিকে বঙ্গভবনের সামনে চলে এসেছে প্রায় ইকবাল আর বদরু।
"ক্ষমতা চেনো? ক্ষমতা প্রাপ্তিতে আছে আনন্দ! আমি চেয়েছিলাম দেশটাকে সুন্দর করতে। চেয়েছিলাম অনুমোদন, পেয়েছি অনুশাসন। আমার তাতে কি? যুগের পর যুগ এভাবে মেধাগুলো নষ্ট হবে, তোমাদের নবাবেরা তো পাবে না এদের। তাই, আমি ইকবাল আমার আইকে আর্মি বানিয়েছি দেশের মেধাবী ছেলেগুলোকে নিয়ে!"
-শুয়ারের পয়দা! তুই.... বলে বাঘা ওরফে শরীফ চুপ হয়ে গেলেন শামীমের বাধায়। ওদিকে জলদানব একদম কাছে চলে গিয়েছে বদরুর। বুম করে আগুনে গোলা ছুড়ে দিলো বদরু। জলদানব তার ইউজুয়াল পাওয়ার ছাড়লো। পানির তোড়ে আগুন নিভে গেলো। এবার চাবুকের মতো একটা পানির স্রোত তেড়ে গেলো। বদরু এবার পারলো না। উলটে পড়ে হাবুডুবু খেতে লাগলো। রাগ, ক্ষোভ ঢেলে দিলো যেনো জলমানব তার উপর।
-দেশের ছেলে পেলে গুলোকে শেষ করতে চেয়েছিস না?! সুপারপাওয়ার মানে দ্বায়িত্ব। বুঝিস? এই নে! মৃত্যু তোর যোগ্য।
চেপে ধরে পুরো শরীরটা পানিতে মুড়িয়ে দিলো। হাসফাস করছে বদরু। পারছে না। শ্বাসরোধ হয়ে যাচ্ছে।
-"বাই দ্য কন্সটিটিউশন অব দ্য কিংডম, অ্যাজ আ কিং অব বে অব বেংগাল আই সেন্টেন্স ইউ ডেথ!"
-জলমানব কি করছেন?! শামীম ধাক্কা দিচ্ছে জলমানবকে।
ওদিকে বিশাল আরমার্ড স্যুট পড়ে ইকবাল যখন অ্যাপ্রোচ করলো ঠিক তখনই গ্র্যাভিটি মাস্টার ইব্রাহিম হাজির হয়ে গেলেন। গোপন সংঘের অন্যতম প্রবীণ সদস্য কুকড়ে দিলেন ইকবালের স্যুটটা। আর নার্ভ মাস্টার ছিলো তৈরি। তুলে আছাড়। নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো ইকবাল।
-জঞ্জাল! থু মেরে শরীর দুটো থেকে মুখ ঘোরালো জলমানব।
নরকের আগুন ইকবাল আর বদরু জ্বালিয়ে দিয়ে গেলেও সেই আগুন নেভেনি। বাংলাদেশ উঠে আসবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে। দেশের জন্য লড়াই করে ক্লান্ত এজেন্টসরা, হিরোরা। আসলেই কি যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে? শুরু হবে সুখের বসন্ত?
পোস্ট ক্রেডিট:
ধুম করে একটা শীপ উড়ে এসেছে। যদিও বেতবুনিয়ার রাডারে ধরা পড়ে উল্কা মতন কিছু। ইকবাল বদরুর নিথর দেহের সামনের পঁচিশ গজের ধুলা উড়িয়ে থামলো।
"অপদার্থ! ক্ষমতা দেখাতে হয় প্রযুক্তি দিয়ে নয় শুধু, বুদ্ধি ও শক্তি দিয়ে। ক্ষমতার মোহে নেমে গেছো নীচে। এবার এসেছি আমি। পুনরুজ্জীবিত হও। আমার ছায়াতলে এসো।"
চোখ পিটপিট করলো ইকবাল। নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে তার শরীরে।
-কে আপনি?
-আমি শোষণ করবো এই মহাবিশ্ব। আমি মহানায়ক। আমি দাফকান!