এজেন্টস অব ডি: গাজা স্ট্রাইকস || পর্ব-১ || ইভেন্ট-ডুম ইন ইজরায়েল

 


১. 


ধুশ করে ফাইলটা টেবিলের উপর রাখল রিশাদ। তাকে বেশ কর্মচঞ্চল দেখা যাচ্ছে। রণিন জিজ্ঞেস করল, "আপনাকে হঠাৎ এরকম হাসিখুশি মুখে দেখা যাচ্ছে কেন?"


রিশাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রনিন। রিশাদ বলল, 'কারণ আমরা কালকে গাজায় যাচ্ছি!" 

রনিন বলল, "সত্যিই দারুন জিনিস। অনেকদিন ঘোরা হয়নি দেশের বাইরে। তবে কিসের জন্য?"


এমন সময় পেছনে এসে মেজর বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছে। পেছনে ফিরে তাকিয়ে রিশাদ একটু মুচকি হাসলো। মেজরের দিকে রনিন তাকিয়ে বলছে, "ও আচ্ছা তার মানে আমরা গোটা এজেন্টস অফ ডি যাচ্ছি?"


তখন রিশাদ বলল, "স্পেসিফিক্যালি। তবে আমাদের সাথে আর একজন যাচ্ছে তার দিকে তাকিয়ে মেজর বাংলাদেশ ও ভুঁরু কুঁচকে বলতে লাগলো, "সে আবার কে?" 


মেজর বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আবার রিশাদ বলল সেই একজনই যে প্রথমবার আমাদের সাথে গাজায় কাজে গিয়েছিল।"


বিকালের মিটিং টা ফ্রুট ফুল মিটিং হল কিনা কেউ বলতে পারবে না। তবে এজেন্ট শরীফ, শামীম আরমিন, জাহেদ, আসিফ সাদিয়া সহ অনেকেই আছে। শরীফ বললেন, "দু তিনজন ফিল্ড অপারেটর কেও নেওয়া হচ্ছে। নতুন তিন জন।" 


তখন একজন বলল, আমাদের ভেতরে তো ভালই ছিল। এখন আবার এই নতুন তিনজন কেন? আমরা সহ মানে কি? এজেন্ট জাহেদ মুচকি হাসলো। 


শরীফ তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, "দু তিনজন ফিল্ড অপারেটর বলতে এরা এজেন্টস অফ ডি এর সাপোর্টিং হিসেবে থাকবে। এরা সরাসরি কোন কাজ করবে না। আসিফ শরীফ এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "এরা কি ডার্ক এজেন্স কিনা?"


এজেন্ট শরীফ বলল, "হ্যাঁ একেবারেই বুঝতে পেরেছ। আমরা যাদেরকে নিচ্ছি তারা হলো আমাদের বর্ধক, হিমাংশু, বিহঙ্গ।" 


রনিন সাথে সাথে বলে উঠল, "হ্যাঁ এবার আগের বারের মতোই বরাবর রয়েছে অঙ্গার মানব। আমরা বেশ ভালোভাবেতাকে চেষ্টা করেছিলাম এবং সে প্রথমে না হলেও রাজি হয়ে গেছে।  অনেকদিন পর আসলে হামাস যেভাবে অতর্কিত আক্রমণ করার পর ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের আক্রমণ একটা মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে।" 


শামীম, ডি এর ডেপুটি কমান্ডার বললেন, "আমি চাইছি আমরা সবাই মিলে আবার ফিলিস্তিনকে সাহায্য করি।"


পরদিন চার্টার বিমানে করে ১৪ জনের মত সেখানে গেল। গাজার কাছাকাছি একটা জায়গায় গিয়ে থামল। সেখানে একটা এয়ারফিল্ড ছিল বলেই সেখানে ল্যান্ড করতে পেরেছে। জায়গাটা উত্তর গাজার কাছাকাছি। সুবিধের না। কারণ এয়ার ফিল্টের চারপাশে প্রচুর পরিমাণ পাথর যার কারণে ল্যান্ড করতে কিছুটা কষ্ট হয়েছে তো বটে। কিছুক্ষণ বিমান ঘুরপাক খেয়েছে। খুব দ্রুতই তারা বিমান থেকে নেমে পড়ল নিচে। বিমান থেকে নেমেই তাদেরকে জানানো হলো যেখানটায় ইসরায়েলের সীমান্ত প্রাচীর তার কাছাকাছি একটা ক্যাম্পিং এলাকা আছে। এবং সেই জায়গায় তারা যখন ঢুকেছে তখন প্রচুর পরিমাণ মানুষ সেখানে জটলা করে আছে এরা সবাই গাঁজা ছেড়ে যাবে। ২০ ঘন্টার ভিতরে যে ফিলিস্তিনকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। গাঁজা শহর পুরোপুরি ছেড়ে চলে যেতে হবে। সেটাতেই গোটা শহর খালি করে যেতে হবে। কিন্তু তারা তো ছেড়ে যাবার নয়। এর ওপর তো তাদের জান বাঁচাতে হবে। আর সে জন্যই এসেছে এজেন্টস অব ডি এসেছে। এটাই তাদের একটা বড়সড় মূল লক্ষ্য।


ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের দুজন লোক এলো। ওদের  হোমরা চোমরা বলেই মনে হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে শুনে তারা বেশ সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। বিশেষ করে রিশাদ এবং জাহেদ আরবি জানে বলেই ভালোভাবে তাদের সাথে কথা বলেছে। 


"আমরা আমাদের মত করে থাকতে চাই তোমরা তোমাদের কোন ধরণের বিষয় আমাদের উপর চাপিয়ে দেবে না।" এরপর মুখপাত্র গুলো আরবিতে যা বলল সেটার অর্থ দাড়ায় এরকম,  "আমরা জানি বাংলাদেশ থেকে এক ধরনের মোটিভ নিয়ে তোমরা এসেছ সেই হিসেবে আমরা তোমাদেরকে কোনো টাস্ক দেব না এবং তোমরা তোমাদের মত করেই আমাদের হেল্প করবে।"


আরমিনের ছেলের বয়স এখন সাত। তার ছোট বোন মানে খালার কাছে রেখে এসেছে। অবশ্য অনেকদিন অপারেশনে সে যায়নি। মাঝখানে দু একটা কেস ফাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করেছিল। কিন্তু  রাষ্ট্রীয়, বৈদেশিক বিষয়গুলো তেমনটা তার চোখে লাগেনি কারণ সেগুলো হয়তোবা দু-একদিনের কেস ছিল। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে এখানে বেশিরভাগ সময় কাটাতে হবে সম্ভবত ২-৩ সপ্তাহ।


নিউজ ব্রিফিং টা চলছিল বেশ জোরেশোরেই চেয়ে ভেলের যে নিউজ অংশটা সেটা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে নতুন তিনজন এজেন্ট। হিমাংশু, বর্ধক, বিহঙ্গ তারা বারবার রিলে করে সম্প্রচার হওয়ার নিউজ টা পরিস্কার ভাবে জানতে চাইছে নতুন হিসেবে। 


এজেন্ট শরীফ বললেন, "এই যুদ্ধক্ষেত্র গুলো আসলে কিন্তু ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে। তোমাদেরকে খুব সাবধানে থাকতে হবে। এর ভেতরে হয়তোবা প্যালেস্টাইনি, ইসরায়েলী যেকোনো নিরীহ মানুষ থাকতে পারে। তাই তোমাদেরকে দেখে শুনে বুঝে ইসরাইলিদের যে সৈন্য আছে তাদের কিভাবে মারতে হবে তা করতে হবে। যারাই আসবে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের কে মারতে তাদেরকে খুন করতে হবে এটা কিন্তু মাথায় রাখবে।"


Post a Comment

Previous Post Next Post