এহতেশামের ডায়েরি #১ (স্কোয়াড্রন ৭১) || pdf

 



এক.


ভোর হতে আরো তিন-চার ঘন্টা বাকি। কিন্তু এই সময়ের ভেতরেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একটি জিপ আগুলিয়া গ্রাম ধরে যাচ্ছে। চলে যাচ্ছে সামনের দিকে।  পাশাপাশি অনেক ঘন জঙ্গল।  এই জঙ্গলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আশেপাশে প্রত্যন্ত গ্রাম গুলো বেশ ভালোভাবে  ঢাকা পড়ে গেছে। কারণ ৭১ সালের এই দিনগুলোতে আসলে তেমন বেশি পরিমাণ মানুষ ছিল না। একে তো হানাদাররা মেরে ফেলেছে অনেক। তবে গ্রামে জঙ্গলের পরিমাণ বেশি ছিলো।  তাই মানুষজন এই জিনিসগুলোকে বেশ আমলে নিতো। কারণ জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে থাকার সুবিধা। পাকিস্তানে হানাদার বাহিনী তাদের জন্য ধরার জন্য ওঁত পেতে থাকবে না।


আগস্টের এই দিনটাতে অন্তত ধুম ধারাক্কা মারামারি হওয়ার কথা আছে। কারণ পাকিস্তানিরা খুব চেষ্টা করছে, এই জায়গায় ঢোকার জন্য। কিন্তু মুক্তিবাহিনী যেভাবে এগিয়ে আছে এসব দিক থেকে তাদের আক্রমণ হয়তোবা বেশ বড় ধরনের হতে পারবে না বলেই ধারণা করছে সবাই।  হানাদার বাহিনীকে তাই তারা তেমন একটা পাতা দিচ্ছে না। আশেপাশের মানুষও বেশ চুপচাপ হয়ে আছে। তারা বেশ দ্রুতই এই জিনিসগুলোকে আমলে না নিয়ে আস্তে আস্তে নিজেদেরকে প্রস্তুত করছে। তবে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। সেটার আশঙ্কায় রয়েছে মুক্তিবাহিনী ও পাক বাহিনী উভয়েই।


বেশ বড় বাংকার করা হয়েছে মুক্তিবাহিনী জন্য। অবশ্য মাত্র ৭ জন তাকে নিয়ে এই দলটি তৈরি। এর মধ্যে মাত্র একটি মেয়ে আছে। এই একটা মেয়ে অনেক খবর এনে দিচ্ছে। গাছের উপর উঠে সমস্ত খবর পাঠিয়েছে। নিচে ফেরত এসে বললো,  "আসলে এখানে তেমন বেশি মানুষ নেই। আমাকে যতোই খবর আনতে কন না ক্যান, ওরা ওগোর জায়গায়ই রইছে।" 


একজন সৌম্যদর্শন ফর্সা চেহারার মানুষ উঠে দাঁড়িয়ে বললো, "তাহলে তুই কি খবর আনিস? তোকে না বলেছি বারবার? বারণ করছি তুই সব খাওয়ার সময় নিস পরে। আগে দেশটাকে তো মুক্ত করতে হবে। 


এটা শোনার পর মেয়েটি একটু কভারটা দেখালো বললো, 'এহতেশাম ভাই কি কন না কন? আমি তো সব খবরই আপনাগোর জন্য আনি। কিন্তু সমস্যা হইতেছে গিয়া আমি সবসময় খবর কেমতে আনমু? আমারও তো নিজের খাওন-গোসল আছে।'


ওরা সাতজন একসাথে সরে এলো এক জায়গায়। ছোট্ট গোল টেবিল। হঠাৎ উপর থেকে রঞ্জুর একটা ডাক আসলো। তারা  উপরে উঠে এলো। শুধু এহতেশাম ছাড়া।


"আমি আসছি। তোরা যা।"


সবাই চলে এলো উপরে। হঠাৎ করেই দেখলো সবাই, সামনের পুকুরটার মাঝখানে কি যেনো জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। তারা সেটা বুঝতে না পেরে সেটার সামনে গেল এবং সেটা ধুম করে একটা বিস্ফোরণ করে জ্বলে উঠলো। দেখলো সবুজ আগুনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। যেনো সেই আলোকচ্ছটা তাদের শরীরে এসে পড়েছে। সেটা দেখে  তখন এহতেশাম বললো, 'এই এই দেখ এটা কি হলো?'


ওদের অনেক পেছনে থাকায় সবুজ আগুন তাকে গ্রাস করতে পারে নি।


কারো গায়ে কোন ধরনের ব্যথা বা কোন কিছুর উদ্রেক হলো না। কিন্তু তাদের শরীরের ভেতর এক ধরনের শক্তি যেনো তারা অনুভব করতে পারলো।


রঞ্জু বললো, "আরে আমার গায়ে তো দেখছি প্রচন্ড শক্তি ভর করেছে" এই দেখ এ বলে সাথে সাথে গাছের গুড়িতে একটা ঘুসি মেরে দিল এবং ঘুসি মারার পর হলো গাছটা একটা ডাল এবং খুবই বড় মোটা ডাল সেটা ভেঙ্গে নিচে পড়ে গেল।


সৌমিত্র নামের এক  মুক্তিযোদ্ধা হঠাৎ করে বলল আরে দেখো দেখো আমিও নিজের হাতের মাধ্যমে মাটিকে উপরের নিচে করতে পারছি মানে আমার মাটিকে উপর নিচ করার মাধ্যমে হচ্ছে এই দেখো বলেই সে একটা পাহাড়ের মত করে একটা টিভি বানিয়ে ফেলো বিশাল এটা দেখে সবাই হাঁ হয়ে গেল।


এদিকে মেয়েটা, মানে ফুলবানু হঠাৎ তার হাতের মাধ্যমে আগুন জ্বালিয়ে ফেললো একটা ঝোপের ভেতর এটা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল।


হারুণের দিকে এহতেশাম ফিরল। 'এবার তুই কি করবি? তোর হাতে কি কোন ধরনের শক্তি আছে।'


তখন হারুন বললো, 'আছে এই দেখ।' হুট করে হারুন আকাশে উঠে গেলো এবং প্রচুর শক্তিতে মাটির দিকে ধাবিত হলো এবং তার প্রবল শক্তিতে মাটি ফুড়ে ভেতরে অনেক বড় ধরনের আঘাত চালিয়ে দিলো সে মাটির নিচে।


বাকি রইলো তিনজন। এদের মধ্যে তালঢ্যাঙ্গা হচ্ছে রশিদ। 


"এই রশিদ তোর খবর কিছু আছে রে?"


তখন রশিদ বলল এই দেখ আমি এটা করতে পারি।' তখন রশিদের দিকে তাকিয়ে সবাই হাঁ হয়ে গেলো।  রশিদের এত বড়ো শক্তি যে আসবে সেটা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। রশিদ, মুহূর্তের ভেতর গোটা এলাকা তাকে যেন একটা অন্য জায়গায় নিয়ে আসলো।


রশিদ থেকে আবার টনির দিকে মুখ ফেরালো এহতেশাম। টনি একজন খৃষ্টান। গ্রামের একমাত্র এতিম ছেলে ও অনেকদিন আগে ছোটবেলায় এই গ্রামে ঢুকে ছিলো। তখন থেকে সে গ্রামেরই ছেলে হয়ে গিয়েছে। টনি তখন দেখালো সে কিভাবে আরেকজনের চেহারা নকল করে ফেলতে পারে। এবং সাথে সাথে তার এই নকল করা দেখে সে অনেকেরই চেহারা ক্লোন করতে শুরু করলো নতুন ভাবেই। সবার আরো কয়েকটি কপি করল যেন নিমিষেই।


বাকি থাকে এহতেশামের সাথে ঢাকা থেকে আসা বনি। এই যুদ্ধকালীন সময়ে নিজের বন্ধুকে ছেড়ে যাওয়া না, বরং অঙ্গীকার করেছিল বনি এহতেশামের সাথেই থাকবে। তাই সে খুব দ্রুতই চলে এসেছে এপ্রিলেই ২৬ মার্চের পর।


"কিরে তোরও?"


"হ্যাঁ। আমারো আছে।" তার বন্ধুকে দেখাতে লাগল। কিভাবে সে একসাথে অনেকগুলো গাছ নিজের মনের ইশারায় উপড়ে ফেলতে পারে। এটা দেখানোর পর পরই সাথে সাথে যেন সবকিছু বদলে অন্য কিছু হয়ে গেল খুব দ্রুত এবং সবাই এটা বুঝতে পারলো যে তাদের সবার মিলিত শক্তি মানে অনেক শক্তি। কিন্তু সবার মন খারাপ হয়ে গেলো।কারণ, ঘটনার সময় এহতেশাম ছিলো না। তাই সে সাধারণ একজন মানুষ হয়ে তাদের সাথে আছে।


শেষ পর্যন্ত এহতেশামকে তারা লিডার বানালো।


 কিন্তু কি ছিল সেই শক্তিগুলোর উৎসটি? সেটা জানার জন্য জানতে হবে আগামী পর্ব পড়তে হবে আপনাকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post