আজকের গল্পটা একটু গভীরের দিকের। গল্পের কেউ
হয়তো অতীতের, আর
কেউ বর্তমানকে পুঁজি করে সামনের দিনগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারো স্মৃতি
রোমন্থন হবে আর কারো দ্বায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শীত আসি আসি
করছে। দিনজুড়ে
বেজায় রোদ, সর্দি-কাশির
বালাই। হুড়মুড় করে
ছেলে মেয়েরা
স্কুল থেকে বেরোয়, এটা বলছি ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা। যারা একটু বড়
তারা
অবশ্য থেকে যায়। কেউ
মাঠে খেলে, অথবা
কেউ আড্ডা দেয়। তবে
কিছু ছেলেপিলে
একটু অন্যরকম যাদের এসবে আগ্রহ নেই। প্রতিটা স্কুলে এধরণের কিছু ছেলেমেয়ের দল থাকে। কারো থাকে
ঐশ্বরিক শক্তি। যাদের
তোমরা অনেকে বলো সুপারহিউম্যান বা অতিমানব। এদের কেউ
মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। কারো থাকে টেলিপ্যাথি বা মনন শক্তি। কেউ আকাশে
উড়ে যেতে পারে। আবার
কারো বা থাকে জন্মগত
যোদ্ধা শক্তি যে একলাই করে দিতে পারে কুপোকাত।
আমাদের গল্পের ইশকুলটা শহরের চৌহদ্দির ভেতর। বিশাল বড় মাঠ
দুটোর মাঝখানে সারি সারি ভবন। কোনটা ল্যাবরেটরি। কোনটা অ্যাকাডেমিক ক্যাম্পাস। কোনটা
বিশাল
অডিটোরিয়াম। লম্বা
করিডর ভেঙ্গে ভেঙ্গে সামনে গেলে দুধারে চোখে পড়বে ক্লাসরুম। সাথে গোল মতন
ক্যান্টিন।
সেখানে
বসে আমাদের গল্পের নায়ক নায়িকারা, খলেরা।
-গাধাটাকে একটা চাপড় দে।
-এইজ্জাহ এভাবে বলিস না তো।
-তো কিভাবে বলবো?
-ওর দোষ কি? কাল যে রাতে ঘুমুতে দেরি করেছে সে তো
বোঝার কথা না স্যারের। স্যার বোঝেন ক্লাসে সঠিক মনোযোগ।
দোষটা আবীরের না। আবীরের গতকাল দুপুরে দেখা হয়েছে তার বাবার সাথে। স্বপ্নে। সেই একহারা
চেহারা। মারা যাওয়ার
সময় দেখা গিয়েছিলো যেমন।
আবীরের বাবা মারা যাওয়ার কারণ ছিলো তিনি অন্যায় মেনে নিতে পারেননি
যুদ্ধংদেহী,চতুর,কুটিল এক
মানুষের পৃথিবী ধ্বংসের পরিকল্পনাকে। এতো সুন্দর পৃথিবী। এখানে কতো শত
কোটি মানুষের বসবাস। তবুও
কি ভেদাভেদ হবে কে অতিমানব আর কে সাধারণ? এই চতুর,কুটিল মানুষের নাম গাফফার আহমেদ। যার ইচ্ছা
ছিলো একরাতে
এক অপরাধ বহুল এলাকা নিজের কসমিক রশ্মি দিয়ে ধ্বংস করার। তার এ
ক্ষমতার
সমঅধিকার শুধু ছিলো একজনের, আবীরের বাবা হাসান-আল-দীন। দুজনেই সেই
রাতে
মারা গিয়েছিলেন। যে
রাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুযজ্ঞ শুরু হতে গিয়েছিলো।
-আবীর! আবীর!
নিজের ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলো। বাসায় যেতে
হবে। তানিশার দিকে
তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালো। তানিশা
তার ক্লাসমেট ও প্রতিবেশি।
-চল।
-হোম ওয়ার্ক সেরে তাড়াতাড়ি ঘুমাবি।
-আচ্ছা। চিন্তা করতে হবে না।
পড়া শেষে রাতে ঘুমাতে যাবে, এমন সময় মাথাটা ভোঁ করে ঘুরে উঠলো আবীরের। এটা অবশ্য প্রথম
নয়। এমনটা হলে সে
দুর্বল অনুভব করে না। বিষয়টা
একটা টেলিপ্যাথি পাওয়ারের মতো। চিইইই করে আওয়াজটা মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে। কোন কিছুর
সিগনাল। নাহ, বেশি পড়া হয়ে
গেছে। ঘুমাতে যেতে
হবে। ভাবলো আবীর।
রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো আবীরের। জেগেই আঁতকে উঠলো সে। তার রুমের
প্রতিটা জিনিস শূন্যে ভাসছে। কলম, খাতা, ক্যালকুলেটর। সব। মনকে
স্থির করতে গিয়েই অনুভব করলো প্রত্যেকটা জিনিস নেমে আসছে ধীরে ধীরে। শান্ত,ধীরস্থিরভাবে
সব আগের জায়গায়
ফিরে গিয়েছে। একি
মনন শক্তি?
-তানিশা!
-উফফ! এই রাতের বেলা তোর কল না দিলে হয় না?! বলদ!
-আরে না! একটা ভয়ংকর ব্যাপার ঘটে গেছে!
-কি?
-আমার রুমে সব কিছুই শূন্যে ভাসছে। মনে হচ্ছে
আমি-ই এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
-তুই পাগল হয়ে গেছিস। এজন্যেই বলি স্কুলে কেনো এমন হয়।
-না সত্যি। তোর বিশ্বাস হচ্ছেনা? কাল স্কুলে দেখাবো।
-আয় কাল স্কুলে। তোর মাথা ফাটাবো।
পরদিন স্কুলে এসে ক্লাসে ঢুকলো আবীর। ওর
বন্ধুবৃত্তের সবাই বিরক্তভরে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। আজ দেরি করে
এসেছে। তানিশা
মাঝখানে ভাবলেশহীনভাবে ওর দিকে চেয়ে রয়েছে।
-আজ ইচ্ছা করে ডাকিনি।
-তাই তো বলি মা আধা ঘন্টা আগে আমাকে ডাক দিলো কেনো।
তানিশা জানতো আবীরের বাবা একজন অতিমানব ছিলেন।
-বাইরে আয়।
-চল।
বাইরে এসে সরাসরি জিজ্ঞেস করে বসলো।
-তুই কি ইদানীং সমস্যায় পড়েছিস?
-সেটা না। আমার সুপার পাওয়ার এসে গেছে। মনে হচ্ছে যে
কোন বস্তুর ভর আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
-উফফ! জানতাম তোর এই সমস্যা হবে।
-আরে দেখ!
স্কুলের ওয়াটার ট্যাংক টাওয়ারটা মট মট করে আওয়াজ করছে। একটা সময় মনে
হলো টাওয়ারটা ভেঙ্গে ট্যাংকটা নিচে এসে পড়বে।
হুউম্মম! ভেঙ্গে গেছে টাওয়ারটা। ট্যাংকটা পড়তে শুরু করলো। নীচ থেকে
তাকিয়ে আছে তানিশা
আর আবীর। একটা সময় মনে
হলো ট্যাংকের পতন থেমে গেছে।
আবীর ট্যাংকটাকে চোখের ইশারাতে তুলে স্কুলের ছাদের উপর রেখে
দিলো।
তানিশা ছাদের উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আনলো আবীরের দিকে। পাশে
বন্ধুদের অনেকেই এসে দাঁড়িয়েছে।
আফজাল, দলের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ মেধার একজন ছেলে. আবীরের দিকে তাকিয়ে বললো,
-তুই সুপার পাওয়ার নিয়ে চলিস?
-কাল টের পেলাম।
-ওয়েলকাম টু দ্যা টিম, আমাদের টিমে আরো দুজন আছে।
-মানে?! আমাদের সার্কেলে দুজন সুপারহিরো আছে?!
-হ্যা, সায়মন, হৃদিতা আর তোর পাশের জন, তানিশা।
অবাক হয়ে তানিশার দিকে তাকিয়ে রইলো আবীর।
-ত্তু...তুই আবার কোন পাওয়ার নিয়ে বসে আছিস?
-আমি?! ইয়ে মানে সময় বন্ধ করে দিতে পারি। যাতে বিপদে পড়ার আগ মুহূর্তে যে কাউকে উদ্ধার করতে পারি।
-পুরা শহর? মানে পুরা শহর না পুরা দেশের সময় বন্ধ করতে পারবি?
-পুরা দেশ।
-আর সায়মন?
-আমি যে কোন অবস্থায় আগুন ধরাতে পারি। যে কোন জায়গায়। পাশ থেকে আওয়াজ আসলো।
-আর আমি, যে কোন পরিবেশে তুষার ঝরাতে পারি। হৃদিতা বললো।
-তো আমি বাদ কেনো? আমি না হয় তোদের অ্যাসিসটেন্ট থাকবো।
-আরে ভালো কথা। টিমের নাম কি? জানলাম না তো? চোখ বড় বড় করে আগ্রহভরে তাকিয়ে আছে আবীর।
-উমম স্কুল ফোর্স?! হৃদিতা বললো।
-না।
-একটা নাম মনে ধরেছে খুব।
-কি শুনি?
-স্কুল ব্যটেলিয়ন।
-ইয়েস! স্কুল ব্যাটেলিয়ন!!!