বাংলাদেশের অতিমানবেরা : উত্থানের গল্প


 


এক.

ঘটনা শুরু হয় এজেন্ট রিশাদ নামে একজনকে একটা পাইলট মিশনে পাঠানোর সময়। এজেন্ট রিশাদ একজন ডিজিএফআই এজেন্ট। তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম যেতে হচ্ছিলো। পথিমধ্যে আখাউড়া রেল স্টেশনের আগে, তার যাত্রীবাহী ট্রেনটি ডাকাতের কবলে পড়ে। ডাকাতদের পরাস্ত করতে প্ল্যান নিয়ে এগোতে গেলেই এক অদ্ভুত দর্শন যুবকের খোঁজ পাওয়া যায় যে কিনা ট্রেনযাত্রীদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে।

যুবকের নাম জায়েক। কুমিল্লায় সে উঠতি বয়সী ব্যবসায়ী। সবে বিয়ে করেছে। তার বাবা  মন্তাজ নামে এক মহাজন থেকে ধার নেয় একমাত্র ছেলের বিয়ের জন্য। পরে মন্তাজ টাকাগুলো উসুল করতে না পেরে বাপ-ছেলেকে শেষ করতে এগিয়ে আসে। ঘটনাক্রমে কেউ মরে না। রফিক সাহেবের বাড়িতে তিনদিন ধরে শোকের মাতম। সদ্য বিবাহিত নীলার হাতের মেহেদী শুকায় নি কিন্তু এরি মধ্যে তার স্বামীকে পাওয়া যাচ্ছে না। শ্বশুর মেডিকেলে। শ্বাশুড়ি ম্যুহমান শোকে।

-নীলা। আম্মা।

জায়েক! বেঁচে আছে? নীলা দৌড়ে আসে। স্বামী বেঁচে আছে এটা যেনো বিশ্বাসই হয় না। বুকে লুটিয়ে হাউমাউ শুরু করলো।

-জায়েক আব্বারে শেষ কইরা ফেলাইলো।

-কিচ্ছু করতে পারবো না। আমি শেষ কইরা দিমু মন্তাজরে। তুমি আম্মারে দেইখা রাইখো।

আখাউড়া স্টেশনের আগে ট্রেন দখল করেছে ডাকাতরা। সেটা রেসকিউ করতে প্ল্যানে নেমেছে আমাদের এজেন্ট রিশাদ। বগি থেকে নামতেই দু তিন জন তেড়ে এলো। ফাইট ব্যাক দিতে দিতে একজন বিশাশদেহীকে দেখা গেলো। ঘুঁষি বাগিয়ে তেড়ে আসতেই হঠাৎ একটা মাটির প্রাচীরে লেগে বাম্প করলো। ছিটকে পড়লো কয়েক হাত দূরে কিছু মাটির বিশাল টুকরো।

-আপনি ইঞ্জিন বগিতে গিয়ে কিছু বন্দী আছে ওদের উদ্ধার করেন।

-কিন্তু আপনি কে? আপনাকে ঠিক চিনলাম না।

-আমাকে চেনা এতো জরুরি না।

-কিন্তু পরিচয় না জানলে যে বুঝবো না আমার উপকারী বন্ধুটির নাম কি।

-আমি?... মাটিমানব। স্মিত হাসলো জায়েক। আপনি কামরুল ডাকাতকে সামলান। এরপর আমি মন্তাককে দেখছি।

একটা সময় মন্তাজের মুখোমুখি হয় মাটিমানব...

-জায়েক তুই আবার আইছোছ। মাটি লইয়া ঘাঁটাঘাটি করনের লাইগা।

-তগোরে শিক্ষা দেওনের লাইগা বইয়া আছি।

-তুই জানোছ আমি পাত্থরের মতোন শক্ত। আমার ঘুঁষিতে দেয়াল ভাইঙা যায়। ল খা!

হঠাৎ গায়েব হয়ে যায় মাটিমানব। হুড় মুড়! হুড় মুড়!

"জায়েক তুই মাটিতে মিশ্যা যা আর আমার সামনে চইলা আয় কোনো লাভ নাই। তরে ফাইট দিতেই অইবো।"

"অই মন্তাজ! শুইনা রাখ তরে গুঁড়া গুঁড়া করনের ক্ষমতা আল্লাহ তাআলা আমারে দিছে। যেদিন তুই আমার বাপের ক্যাশ ভাইঙা আব্বার পেটে ছুরি চালাইছোস, খোদার কসম তরে মারবার এন্তেজাম করছি আমি। আমার হাতে তর মরণ লিখা আছে।"

ধুম। ধুম। ধুম।

বড়ো কয়েকটা ঢিল এসে পড়লো গায়ে মন্তাজের। জায়েকের এই ধরণের আচরণের সাথেই মোটেই পরিচিত নয় সে। আরো একটা ছুটে এলো মুখ বরাবর। এবার আর সহ্য করা গেলো না। পরেরটা ঘুঁসি মেরে মাটির চাকতিটা গুঁড়ো করে দিলো।

মন্তাজ আইজ তর শেষদিন। এই ল।

-পারলে ঠেকা।

মুর্হুমুহু মাটির চাকতি এসে পড়ছে। সাধ্য নেই মন্তাজের তা ঠেকানোর। একসময় বাধ্য হলো তার গর্বের পাথর সম শক্তির আত্নসমর্পণের। যে হাত দিয়ে ঘুঁষি বাগাতো তা আজ রক্তাক্ত। ধীর লয়ে শুয়ে পড়লো মাটির উপর। গ্লানি তার চোখ বুজে দিলো।

রেসকিউ মিশন শেষ করে জায়েক এর যোগাযোগ ঠিকানা নিয়ে নিলো রিশাদ।

দুই.

ঠিক সেই মুহূর্তেই ডিজিএফআই হেডকোয়ার্টারে কুমিল্লার ডাকাতির উপর মিটিং চলছে।

-ডিরেক্টর তানভীর, উই আর ভেরি ইমপ্রেসড অ্যাবাউট রিশাদ অ্যান্ড হিজ টিম। বাট...

দরোজা খুলে এক মহিলা হন্তদন্ত হয়ে ঢুকে গেলো, ডিজিএফআই মহাপরিচালক জেনারেল এহতেশাম এর দিকে তাকিয়ে চোখ গোল গোল করে...

-টার্ন অন স্যাটেলাইট ভিউয়িং ফ্রম রাজশাহী

-হোয়াট...

ক্লিক করে বিশাল প্রজেক্টর এর আলো জ্বলে উঠলো।

-একটা ভিডিও পাঠিয়েছে রাজশাহী এজেন্ট জাহেদ।

ভিডিওটাতে অনেকটা অমানুষিক ধরণের কিন্তু মানবিকতার পরিচয় আছে। সেই ভিডিওটিরও আগের রাতে রাজশাহীতে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেছে। ব্যক্তিগত রোষানলে পুড়ে ছাই হয়েছিলো বাড়ি। সে বাড়ির কেউ না মারা গেলেও সবার ধারণা একজন উদ্ধারকারী বাঁচতে পারেনি। কিন্তু পরদিন সকালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই একজন বেঁচে ফিরে, মেডিকেল কলেজে নিজেই ভর্তি হয়।

ছেলেটির নাম রায়হান। পোড়া অবস্থায় নিজে এসেছে ঢুলতে ঢুলতে। ইমার্জেন্সি বার্ণ ইউনিটে ডাক্তাররা ভর্তি করেছে। সাড়ে আটত্রিশ ঘন্টা বেঁহুশ থাকার পর হঠাৎ জ্ঞান ফিরলো। কে যেনো চিল্লিয়ে কথা বলছে।

-আমি হাসপাতালে আসার সময় হাঁটার পথে দাঁড়াবি না।

-আপনে কে? ওয়ার্ড বয় চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো।

-আমি...

লোকটা থেমে গেলো। ওয়ার্ড বয়ের পেছনে একটা রোগী। পুরো গায়ে ব্যান্ডেজ।

-ছেড়ে দে ওকে।

-কে তুই?

-ঐদিন আগুন দিয়েছিলি?

-এই কে তুই?

রায়হান এগিয়ে এলো। খপ করে লোকটার হাত ধরলো। সাথে সাথে লোকটার মুখ বিকৃত হয়ে গেলো।

-কে তুই? চাপা চিৎকার।

রোগীর শরীরে আগুন ধরে গেলো। আশেপাশের সবাই বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়েছে।

খপ করে রায়হান লোকটার গলা টিপে ধরলো। লোকটার শরীর জ্বলে উঠলো।

তিনতলা থেকে ফেলে দিলো একহাতে রায়হান।

জনতার দিকে তাকিয়ে বললো "আমি অগ্নিমানব।"

-সিরিয়াস? কানে সেলফোন লাগিয়ে কথা বলছেন ডিরেক্টর তানভীর, এজেন্ট জাহেদের সাথে।

-স্যার, ভিডিওটা নিশ্চয়ই দেখেছেন?

-বিশ্বাস হচ্ছে না। তুমি অগ্নিমানবের সাথে কথা বলে তার সাথে যোগাযোগ রাখো।

দুদিন পর।

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম।

এজেন্ট রিশাদকে পার্বত্য চট্টগ্রাম যেতে হবে একটা প্রাইমারী মিশন ইনভেস্টিগেশনে। চট্টগ্রামের খুলশি এলাকায় এসেছে সে পাহাড়ধ্বসের কবল থেকে ছিন্নমূল মানুষকে আর্মির সহায়তায় সরিয়ে নেয়ার রেসকিউ মিশনে।

ঠিক সেই মুহূর্তে একটা অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গেলো। বছর বিশেক হবে একটা ছেলে হুড়মুড় করে বড়ো থেকে আরো বড়ো হতে লাগলো। শরীরটাতে সবুজ রঙের মেলা বসেছে যেনো। ঘাস, লতা, পাতা অদ্ভুতভাবে পেঁচিয়ে ধরেছে। রিশাদ সামনে এগিয়ে গেলো।

-কে তুমি?

-আমি? সুন্দর একটা হাসি দিয়ে তরুণটি বলে উঠলো "আমি পাহাড়মানব"।

দুদিন পর। কপালে ভাঁজ পড়ে যাচ্ছে ডিজিএফআই মহাপরিচালক এহতেশাম এর।

টেবিলের ওপাশে ব্যস্ত ভঙ্গীতে কথা বলতে ব্যাস্ত ডিরেক্টর তানভীর।

-না না! হাতছাড়া করা চলবেনা! ছেলেটাকে হাতের কাছে রাখো। উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলছেন রিশাদকে।

-ওকে স্যার।

ঠিক সে সময়ে মেজর তালহা ঢুকলেন এহতেশামের রুমে। সাথে একটা কিশোর ছেলে। নাম রণিন। তার জুতোয় নাকি অদ্ভুত এক শক্তি আছে উড়ার।

-অ্যাডমিট হিম ইন স্কুল অব কমব্যাট ডিফেন্স অ্যান্ড মার্শাল আর্টস।

দুই.

সেইদিন রাত তিনটায় আরো একটি অদ্ভুত কল পেয়ে ঘুম ভাংলো মেজর তালহা'র। সিলেটে নাকি দুদিন আগে ঘটে গেছে অদ্ভুত ঘটনা।

এক চা বাগানের ম্যানেজারের বাড়ির আশেপাশে অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। অদ্ভুত একটা প্রাণী "জুজু" নামে, চা বাগান থেকে ধরে ধরে শ্রমিকদের বাচ্চাদের নিয়ে যাচ্ছে।

ম্যানেজারের ছেলে তাদের কেয়ারটেকারের ছেলেকে ডাকে।

-এই জামান।

-হ্যাঁ বলো তাজিন ভাইয়া। তাজিন গার্ডেন ম্যানেজারের ছেলে। এক ব্যাচ বড়ো। তবে দুজনেরই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

-গার্ডেনে কি জানি হচ্ছে শুনেছি।

-হ্যাঁ, আমিও। কি একটা নাকি নিয়ে যায় বাচ্চাদের।

-সতর্ক করা দরকার মানুষ জন কে।

-জুজুকে কখনো থামানো যায় না।

-হেহ। বললেই হলো?

একদিন হঠাৎ করে বাগানে হইচই পড়ে গেলো। আজ একসাথে তিনটি মহিলা কর্মীর কোল থেকে বাচ্চা গায়েব। তিনটি তিনটি বাচ্চা গায়েব মানে অনেক বড়ো সড়ো ব্যাপার। তাই একটা প্রতিরোধের ব্যাপার স্যাপার থাকতে হবে।

-হামিদ মিয়া... গার্ডেন ম্যানেজার শফিক সাহেব উদ্বিগ্ন আজকের ব্যাপার নিয়ে। এমন চলতে থাকলে গোটা গার্ডেনের সব কর্মী সব কাজই বন্ধ করে দিবে।

-বলেন সাব। হামিদও বেশ চিন্তিত।

-কিছু তো বুঝতেছি না।

-স্যার ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থা করা করা যায় না।

-তা যায়। তবে সব সময় কি বিদ্যুৎ কি থাকবে?

-সেটাও কথা।

এদিকে চুপি চুপি শলা পরামর্শ করে তাজিন ও জামান। তাজিন বাগান এলাকার বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তিত। তার উপর তাজিনের ছোট বোন মাত্র আড়াই বছরের। এর উপর রাত দিন জুজুর ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে তার মা।

-জামান আমাদের বয়সের পোলাপান রেডি করা যায় না?

-তা যায়। কিন্তু কেনো তাজিন ভাই?

-আমরা রাতে এলাকা পাহারা দেবো।

-দিয়ে কি লাভ?

-কি লাভ মানে? বাচ্চা গায়েব হয়ে যাচ্ছে আমাদের কি কিছুই করার নাই?

-পারবেন না।

-পারতে হবে। অন্তত একটা বাচ্চা যেনো খোয়া না যায় সেজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

-আপনি অদ্ভুত। পারেনও।

সে রাতে ঘটা করে মশাল জ্বালানো হলো ফ্লাডলাইটের বিকল্প হিসেবে আর কি!

রাত বাড়ছে। দূরে কোথাও শিয়াল ডেকে উঠলো। একটা দুটা তিনটা।

ঝি ঝি ঝি... ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা শব্দে চারপাশ কেমন যেনো মৃত্যুপুরীর ভয়াবহতায় ডুবে আছে। সাত আসমানের উপর থেকে যদি খোদা ইনসাফ করেন তো এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াল সুন্দর জায়গাটিতে হয়তো বাচ্চারা প্রশান্তিতে ঘুমাতে পারবে।

ওরা সাতজন সমবয়সীর দল আছে এখানে।

-জামান।

-কিরে মবিন্যা?

-ডর লাগেরে বন্ধু।

-হেহ পাগলা। তোরে কি এক টাকা চাঁদা দিয়া টয়লেট করতে হয় এখনো?

-এই জামান ফাজলামী করিস না তো। এমনিই পরিবেশ ভালো ঠেকতেছে না।

-হুম।

তাজিন আজ ছোট বোনকে বুলি শেখাচ্ছে। মা কিচেনে। বাবা স্টাডিতে।

-বলো হেলিকপ্টার।

-হেলিকক্তার

-ছিঃ এমনে বলে না তো।

-তিহ এন্নে বদেদাতো।

-আবার দুষ্টামি?

-আবাল... ভ্যাঅ্যাঅ্যা

কিছু একটা টের পেয়েছে ছোট্ট তিমা।

-অ্যাই তিমা কি হয়েছে আপুই?

-অ্যাঁ। বুত।

-কোথায় ভূত?

-ঐ...অইতানে...

ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তাকায় জানালার ধারে। ওখানে একটা কি ছিলো যেনো।

এখন চৈত্র। দাবদাহে জীবন অতিষ্ঠ। তাই জানালা কপাট খুলে থাকতে হয়।

-মা। মা। মা কে ডাকে তাজিন।

-কিরে। শান্তিতে থাকতে দিবি না?

-তিমা ভয় পায় তো। আমি নিজে কেমন করে ঠিক থাকি?

-তোর বাবাকে ডাকি দ্বারা।

এমন সময় ভীষণ আওয়াজ করে উঠে ঝোপটা। যেনো দশটা ষাঁড়কে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাইরে থেকে হই হই করে উঠলো সবাই।

-দাড়া আমি যাই। জামানের অ্যাপ্রোচ।

-দাঁড়া বে আমিও আসতেছি।

ঝোপের সামনে এসে স্থির হয়ে যায় জামান। পেছনের সবাই এখনো দশ পনেরো ফুট দূরে।

বিকৃত ধরনের শব্দ ভেসে আসছে। টর্চ মারতেই স্থির হয়ে গেলো জামান।

চার ফুট মানুষ আকৃতির কিছু একটা ওটা। মুখে রক্ত। হাতে একটা বাচ্চার পা। গোটা গায়ে কাঁটা। মুখটা বানর আর কুমিরের চেহারা মেশালে যেমন হবে তেমন।

হাতে কিছু নেই তাই ওখানে দাঁড়িয়েই আছে। এদিকে জানালা পাশ থেকে তাজিন তাকিয়ে আছে। জামান যে ভিকটিম হতে যাচ্ছে তা টের পেলো। চুপি চুপি শট গান টা নিলো হাতে। দেয়ালে ঝোলানো থেকে।

এক দুই তিন। ঠুশশ...

গুলিটা প্রশস্থ অবস্থায় বুকে ফুটো করলো প্রাণীটার। ভাবান্তর নেই প্রানীটার। লাফ দিয়ে এসে তাজিনের গালে একটা থাবড় বসিয়ে দিলো...

এরপর আর মনে নেই...

সাত দিন পর হুঁশ ফেরে তাজিনের।

-আমি কোথায়?

-আরে নড়বেন না।

-আমার কি হয়েছিলো।

-জুজুতে পেয়েছিলো।

এতোদিন বিশ্বাস করেনি নি। তাই অনেক কষ্ট হচ্ছে।

আজ বাসায় ফেরার পালা। এখনো দেখা যাচ্ছে পাহারা আছে।

যদিও শফিক সাহেব তাঁর স্ত্রীকে ছোট্ট তিমাকে সহ পাঠিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই ধাকায়। তাজিনের জন্য রয়ে গেলেন। ড্রইং রুমে ডিসি সাহেব আছেন কয়জন অফিসার নিয়ে।

রাত বাড়ছে। লোক জন পাহারায়।

ঘো ঘো ঘো। আবার সেই আওয়াজ। কিন্তু হঠাৎ করে তাজিনের কেমন জানি লাগছে। এটা কি জুজুর কারণেই হচ্ছে?

বিবর্ণ সবুজ রং ধারণ করছে শরীর। কেমন জেনো সরীসৃপ আকৃতি তাতে।

-তাজিন ভাইই?

-দরজাটা খুলে দে জামান। ঘোঁত ঘোঁত ঘোঁত।

আওয়াজ শুনে ডিসি, অফিসাররা, শফিক সাহেব, হামিদ ঘরের সামনে চলে এলেন। এসে বিস্ময়আভিভূত হয়ে গেলেন। তাজিনই যে এখন জুজুর মতো আকৃতিতে চলে এসেছে! সাত ফিট ছাড়িয়ে যাচ্ছে!

-আন্সেফ ইউর গান!

-থামেন! তাজিন বিকট গোঙ্গানি দিচ্ছে।

-হোল্ড ফায়ার!

-ডিসি সাহেব থামেন!

-একে গুলি করবো নাকি?

-না এ আমার ছেলে!

-কি নাম তোমার?

-আমি...? সাত ফিটের মানুষের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো হাসি... “জুজুমানব!”...

বাকিটা জানতে কিনে ফেলুন আমার ২০২৩ সালের বিশাল বই "বাংলাদেশের অতিমানবেরা"। বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

Post a Comment

Previous Post Next Post